আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্তর সালের মতো গুরুত্বপূর্ণ : নাসিম

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭০ সালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোট দিতে ভুল হলে দেশে আবার জঙ্গি উত্থান হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয়ের নির্বাচন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল শনিবার বিকালে যমুনা নদী বেষ্টিত কাজিপুরের দুর্গম চর কুমারিয়াবাড়ি মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে যাকে মনোনয়ন দেবেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য কাজ করবে। নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনবেন।

বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠেই মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদেরকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবে জনগণ। খেলা হবে নির্বাচনী মাঠে। রেফারি থাকবে নির্বাচন কমিশন। জনগণ যাদের রায় দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে। নির্বাচনী মাঠ থেকে বিএনপিকে না পালানোর আহ্বান জানান মোহাম্মদ নাসিম।

কাজীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলেও স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্নমুখী উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ দেশের সফল নেত্রী মন্তব্য করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে অন্ধকার বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গি দমন করেছেন। অদম্য সাহস নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

মনসুর নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সরিষাবাড়ির সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন ও মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান এবং সরিষাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাদশাহ প্রমুখ।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুর নগর ইউনিয়নের নির্মাণাধীন সড়ক, কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি চরের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক পথ গাড়িতে যান এবং পথে পথে গণসংযোগ করেন।