সরকারি পাঠ্যপুস্তক কেজি দরে বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক

নিউজ ডেস্কঃ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বই কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় ২০১৮ সালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কিছু বই বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিমল দেবনাথ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৪৯ টি বই বিক্রি করেন তিনি। ১০ টাকা কেজি করে ৬০ কেজি বই বিক্রি করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন বইগুলো আটক করে। পরে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মুদাব্বিরুল ইসলামকে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো বিদ্যালয়ে ফেরত নিয়ে যান। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. নুরুল আমীন ঘটনাস্থলে যান। তিনি এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে বিক্রি করে দেওয়া বইয়ের তালিকা প্রস্তুত করেন। ওই সময় ৬০ কেজি বই বিক্রির টাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়।

চেয়ারম্যান একেএম মুদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি বই বিক্রি করে দেওয়া হলে স্থানীয়রা সেগুলো আটক করে তাকে খবর দেন। পরে তিনি গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রশাসনের লোকজনকে জানান। ইউএনওর নির্দেশে তিনি বইগুলো নিজের জিম্মায় নেন এবং বই বিক্রির টাকা প্রধান শিক্ষক তার হাতে তুলে দেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকের এমন কাণ্ডে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাই শিক্ষককে সরিয়ে নিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. নুরুল আমীন বলেন, সরকারি বই বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তবুও বিক্রি করা হয়েছিলো। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রতিবেদন জমা দেবেন।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘যা দেখছেন সবই নাটক।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনার কলি নাজনীন জানান, বই বিক্রির বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তার কাছে অস্বীকার করেছেন। তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন জমা দেবেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।