বিশ্বকবির কুঠিবাড়ী রক্ষায় নবনির্মিত বাঁধটি পদ্মার ভাঙনের কবলে

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ীটি রক্ষায় নবনির্মিত বাঁধটি পদ্মার ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ছে। সেই সঙ্গে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ শেষের আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে।

শিলাইদহ কুঠিবাড়ীতে কর্মরত কাস্টোডিয়ান মুখলেচুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা প্রকৃত অর্থে কুঠিবাড়ী রক্ষার জন্যই। কিন্তু বাস্তবে এখানে সেই কাজ হয়নি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প শেষ করা হয়েছে।

উপজেলার কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবোর যোগসাজশে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন তারেক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়বোধ থেকে প্রকল্প নির্মাণকাজ দেখতে মাঝেমধ্যে গিয়েছি। এখন দেখছি যেভাবে প্রকল্প শেষ হয়েছে, তাতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষার কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিজেল প্লান্টের সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোং-এর প্রকল্প তদারককারী প্রকৌশলী রাজিব বলেন, গত ৩০ জুন কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবো। যদিও এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে তৈরি ১৩ লাখ বøকের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্লক এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এর মধ্যে পদ্মার পানি বেড়ে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। তবে আরডিপিপি অনুমোদন পেলে অসম্পূর্ণ কাজসহ ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে পাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশল আরিফুজ্জামান খান বলেন, প্রকল্পের সুলতানপুর অংশে ২ হাজার ৭২০ মিটার ও শিলাইদহ অংশে এক হাজার মিটার রক্ষাবাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুই অংশের মাঝখানে ১ হাজার ৫৩০ মিটার কাজ না হওয়ার কারণে নদীভাঙনে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে।

নির্মাণ শেষ হতে না হতে রক্ষাবাঁধের এই অবস্থার জন্য পাউবোকেই দায়ী করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুমারখালী-খোকসা) কুষ্টিয়-৪ আব্দুর রউফ। তার দাবি, প্রকল্পটির বাস্তবায়নে যেসব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও নকশাবহির্ভূত কাজ হয়েছে এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্প সম্পূর্ণ দেখিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।