জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ৯ আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকের ঊর্ধ্বগতি নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চাহিদার যোগান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। এ পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৮’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ব্রিটিশ তেল কোম্পানি ‘শেল অয়েল’ এর ৫টি গ্যাসক্ষেত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানায় কিনে নেয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে দেশজ জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতির সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেয়ার পর থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎপাদক হিসেবে এ গ্যাসক্ষেত্রগুলো অদ্যাবধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর কৌশলগত ও রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতেই আজ আমরা স্বল্পমূল্যে দেশীয় গ্যাস ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছি।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভর করে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সারকারখানাসহ বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে উঠেছে। দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭১ শতাংশ পূরণ করে প্রাকৃতিক গ্যাস। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সুষ্ঠু ব্যবহারের পাশাপাশি অপচয় রোধ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি-মিশ্র এবং বিকল্প/নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। দেশে প্রাকৃতিক জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধির জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার এবং উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি সংক্রান্ত মৌলিক গবেষণা এবং প্রায়োগিক ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর জোর দিতে হবে।

প্রাকৃতিক গ্যাস অফুরন্ত নয়। তাই এ মূল্যবান সম্পদের অপচয় রোধ করে এর যথাযথ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালনের উাদ্যোগ সফল ও সার্থক হোক- এ কামনা করি।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ই আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “প্রতি বছরের মতো এবারও ৯ই আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৮ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ৯ই আগস্ট ব্রিটিশ তেল কোম্পানি শেল অয়েল-এর কাছ থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র ক্রয় করে রাষ্ট্রীয় খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে দেশের সম্পদের ওপর জনগণের ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হয়। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এ গ্যাসক্ষেত্রগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর থেকে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনন্য ভ‚মিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করছে।

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিগত সাড়ে নয় বছরে নতুন নতুন ক‚প খননসহ গ্যাস সেক্টরে প্রভ‚ত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমানে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। দেশে শিল্পায়ন দ্রুততর হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে মোট ৯টি নতুন গ্যাস স্ট্রাকচার আবিষ্কারসহ ৪টি নতুন গ্যাস ক্ষেত্র সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ ও ভোলা নর্থ-১ আবিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৭ এ উন্নীত হয়েছে। বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড সম্প্রসারণ এবং বিবিয়ানা-ধনুয়া গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের মুচাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এবং টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় কম্প্রেসর স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। গ্যাস নেটওয়ার্ক রাজশাহীতে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাপেক্স এর কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গভীর ক‚প খননের ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি আধুনিক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন রিগ ক্রয় করাসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে। রশিদপুরে দৈনিক ৩,৭৫০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন কনডেনসেট ফ্রাকসনেশন প্লান্ট নির্মাণের ফলে আহরিত গ্যাস উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া, রশিদপুরে আরো একটি দৈনিক ৪,০০০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রাকসনেশন প্লান্ট শীঘ্রই উৎপাদনে আসবে।

আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজ প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার ব্যবহারের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ নিয়েছি। ২০৪১ সাল পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্থল ও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০২১ সালের মধ্যে ১০৮টি গ্যাসক‚প খননের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।

আমরা বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্র এলাকায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।  অগভীর সমুদ্রের ৪টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে কয়েকটি বিদেশি তেল কোম্পানির সাথে ইতিমধ্যে পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সেসব ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সকল জ্বালানির অপচয় রোধ করে এর যথাযথ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করে রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে অবদান রাখতে আমি সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা ‍নিউজ২৪