শিশু সুস্থভাবে বেড়ে উঠার জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই : দীপক চক্রবর্ত্তী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী বলেছেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনে দেশ গঠনে ভ‚মিকা রাখবে। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক শিশুকে মায়ের বুকের শাল দুধ দিতে হবে এবং ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ ছাড়া কোন ধরনের বিকল্প দুধ ও খাবার শিশুদের জন্য দরকার নেই। যেসব শিশু দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাবে সেসব শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও জন্ডিসসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কম থাকে।

শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। সন্তানের চেয়ে মায়ের কাছে আর বড় কিছু হতে পারে না। মায়েদের সচেতন করা গেলে বিকল্প দুধসহ অন্যান্য খাবারগুলোর ব্যবহার কমে আসবে। এ সব বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ/প্রতিবেদন প্রচার করলে মায়েরা সচেতন হয়ে তাদের শিশুদেরকে বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে গুঁড়া দুধ ও অন্যান্য খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কনফারেন্স হলে বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপনন নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের (১-৭ আগস্ট) এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “মায়ের দুধপান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিডিভল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। মাল্টিমিডিয়ায় মাধ্যমে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) প্রতিনিধি গাজী মো. শাহীনুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, শিশু জন্ম নেয়ার সাথে সাথে প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে যে দুধ পান করবে সেটা শাল দুধ। এটা খেতে না পারলে ঐ শিশুর জন্য আর কখনো শাল দুধ খাওয়ার সুযোগ আসবে না। মায়ের বুকের দুধ ছাড়া টিনের গুঁড়া দুধ বা বিকল্প দুধ ও অন্যান্য খাবার খাওয়ালে একটি শিশু কখনো সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠবে না। এ জন্য সকল মাকে তার শিশুর প্রতি আন্তরিক হতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকি বলেন, গুঁড়া দুধ মানে সৎ মা। মায়ের বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে শিশুকে গুঁড়া দুধ খাওয়ালে শিশুর স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা থাকবে। একজন শিশুকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে চাইলে জন্মের সাথে সাথে প্রথমে এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের কাছ থেকে শাল দুধ নিশ্চিত করতে হবে। শাল দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ এবং দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার নিশ্চিতকরা গেলে একটি সুস্থ সবল বাড়ন্ত শিশু দেশকে উপহার দিতে পারবো।

প্রিন্স, ঢাকা