ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী ১১ আগস্ট সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

নিউজ  ডেস্ক:   শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেছেন সাংবাদিক নেতারা। এছাড়া, রাজধানীর কাওরানবাজারে সার্ক ফোয়ারা চত্বরে আরেকটি মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরুর জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল, তখন তাদের অভিভাবকরা, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা, প্রিন্সিপালরা কোথায় ছিলেন? এই আন্দোলনে কীভাবে অছাত্ররা প্রবেশ করলো? বারবার সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এরপর সাংবাদিকরাও প্রয়োজনে লাঠি হাতে প্রতিহত করবে। আমি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। 

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দিতে। তাদের চিহ্নিত করা আমাদের কাজ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার বাহিনীর কাজ কী? সাংবাদিকরা আহত হলো, আপনাদের কেউ একবার তাদের দেখতেও গেলেন না। আমরা দলকানা নই, আমাদের চোখ আছে। তিন দিনের মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত না করলে, আর বিচারের আওতায় না আনলে আমাদের পথ আমরা বেছে নেবো।’

বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগে, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি থানায় আন্দোলন দেখতে চাই। গুজব রটনাকারীরা আমাদের বিভ্রান্ত করছে। গুজবে কান দেবেন না। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ কঠোর আন্দোলন করবো আমরা।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী ১১ আগস্ট বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। আমার ভাইকে রাস্তায় পেটানো হবে আর আপনারা নিরাপদে থাকবেন, তা হবে না। আমি সর্বস্তরের সাংবাদিকদের এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাই।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর যারা হামলা করে, তারা গুজবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের পেশাদারিত্বের জায়গা যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা সাংবাদিকদের শত্রু। দুঃখজনক হলেও সত্য, হামলার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ধরতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি সরকারের পক্ষের কেউ আহতদের হাসপাতালে দেখতে যায়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার করতে না পারলে আপনারাও আমাদের সমালোচনার পাত্র হবেন।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এই কোমলমতি বাচ্চারা রাস্তায় নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। তারা দেখিয়েছে কীভাবে চলতে পারে দেশ। কিন্তু এই আন্দোলনে ঢুকে পড়া এই তৃতীয় পক্ষ কারা? এই সরকার গণমাধ্যমবান্ধব, তাহলে সেখানে এরকম ঘটনা কেন ঘটছে?’