ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টিতেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো সাকিববাহিনী। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরপর দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পেল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফ্লেচার-রাসেলদের সামনে ১৮৫ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম-লিটনের ভালো শুরু এবং শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহর দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ৩২ বলে ৬১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন লিটন দাস, যা সাজানো ছিল ৩টি ছয় ও ৬টি চারের সাহায্যে। আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল করেন ১৩ বলে ২১ রান। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহর অপরাজিত ২০ বলে ৩২ এবং আরিফুলের ১৬ বলে ১৮ রানের সুবাদে ১৮৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

উইন্ডিজের হয়ে ৩ ওভারে ২৬ রানে দুই উইকেট নেন কেমো পল। এছাড়া তাদের অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩২ রানে নেন ২ উইকেট।

১৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান তোলার পর বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খেলা আর শুরু করা সম্ভব না হলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ১৯ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকেট হারায়। ওই ওভারের পঞ্চম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচারকে সীমানায় নাজমুলের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার মুস্তাফিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ২৬। আরেক ওপেনার ওয়ালটন ১৯ রানে ফিরে যান সৌম্য সরকারের বলে। এরপর নিজের প্রথম ওভারে এসেই উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মারলন স্যামুয়েলকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি।

তবে রোভম্যান পাওয়েল ও দিনেশ রামদিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জুটির ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে রামদিনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পেসার রুবেল হোসেন। সাজঘরে ফেরার আগে রামদিন ১৮ বলে ২১ রান করেন। তার আউটের পর ক্রিজে আসেন আন্দ্রে রাসেল। মারকুটে এই ব্যাটসম্যান এসেই ঝড় তোলেন। রভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ১০ বলে দলীয় সংগ্রহে ১৯ রান যোগ করেন রাসেল। ইনিংসের চতুর্দশ ওভারে বোলিংয়ে এসে পাওয়েলকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২০ বলে ২৩ রান করেন পাওয়েল।

পাওয়েল ফেরার পর ব্যাট করতে নামেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে ২০ বলে আরও ৩২ রান যোগ করেন রাসেল। তবে আর এগুতে পারেনি এই জুটি, এগুতে দেননি রনি। ইনিংসের ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্রাফেটকে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। ব্রাফেট ১০ বল খেলে ৫ রান তুলতে সক্ষম হন।

পরের ওভারে বোলিং আসেন মুস্তাফিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ১৩৫ রান। জয়ের জন্য তাদের দরকার ১৮ বলে ৫০ রান। স্ট্রাইকে আন্দ্রে রাসেল, যিনি ২০ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত। তবে এখানেই শেষ রাসেলের বীরত্বগাঁথা। মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই আরিফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। অফ সাইডে মোস্তাফিজের দেওয়া লো ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন রাসেল। তবে ব্যাটে বলে ঠিকমতো করতে না পারেননি তিনি। বল জমা পড়ে লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুলের হাতে।

রাসেল আউট হওয়ার পরপরই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের তখন প্রয়োজন ১৭ বলে ৫০ রান। তবে পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ডিএলএস মেথডে বাংলদেশকে ১৯ রানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের হয়ে ৩.১ ওভারে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এছাড়া সাকিব ৪ ওভারে ২২ রানে ১টি ও রুবেল হোসেন ৪ ওভারে ২৮ রানে ১টি, আবু হায়দার রনি ৩ ওভারে ২৭ রানে ১টি ও সৌম্য সরকার ২.৩ ওভারে ১৮ রানে ১টি উইকেট নেন।