শ্রমিক ধর্মঘটে কপাল খুলছে ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালকদের

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: শ্রমিক ধর্মঘটে ব্যাটারী চালিত রিক্সার কদও বাড়ছে! ক’দিন থেকে সারা দেশে চলছে শ্রমিক ধর্মঘট। সারা দেশের ন্যায় সিলেটের গোলাপগঞ্জেও শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। সড়ক-মহাসড়কে নেই ইঞ্জিন চালিত যানবাহন। আর এই সুযোগে কপাল খুলছে রিক্সা চালকদের।

এ উপজেলায় প্রায় ৫শতাধিক রিক্সা রয়েছে। ব্যাটারী চালিত ও প্যাডেল চালিত রিক্সা। তবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ব্যাটারী চালিত তিন চাকার রিক্সা। ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ব্যাটারী চালিত রিক্সার দখলে ছিল পৌর চৌমুহনী। কেন্দ্রের শ্রমিক নেতাদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘট গত শুক্রবার শুরু হয়। আর এর পর থেকে সড়ক-মহাসড়কে ইঞ্জিন চালিত যানবাহন তেমন একটা না থাকায় এ উপজেলার রিক্সা শ্রমিকদের কপাল খুলছে।

প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল রবিবারও সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় রিক্সা চালকরা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ পৌর সদর থেকে হেতিমগঞ্জ পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৮০/১০০ টাকা করে। গোলাপগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণের ভাড়া ছিল জনপ্রতি ১০০টাকা করে। ঢাকাদক্ষিণ থেকে ভাদেশ্বর পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০টাকা করে। পৌর সদর থেকে রানাপিং বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৭০/৮০ টাকা করে।

গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট কদমতলি পয়েন্ট পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০/২০০ টাকা করে। রিক্সা চালকরা দু’জন করে এখান থেকে ওখান পর্যন্ত যাত্রীদের পারাপার করেন। তবে দুপুর ৩টায় ইঞ্জিন চালিত কিছু গাড়ী সড়কে অবস্থান করায় রিক্সা চালকরা ভাড়ার পরিমান অনেকটা কমিয়ে দেন। কিশোরগঞ্জের রিক্সা চালক ও গোলাপগঞ্জের অস্থায়ী বাসিন্দা মনোয়ার মিয়া (৫০) জানান, সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ২হাজার ৭শ’টাকা কামাই করছেন। রিক্সার চার্জ শেষে হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ঘন্টা চার্জ দিয়ে আবার রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজারে রিক্সা চালক ও গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের অস্থায়ী বাসিন্দা আক্কল আলী (৬০) জানান, তিনি সকাল থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার টাকা কামাই করছেন। তার রিক্সায় ব্যাটারী বেশি থাকায় চার্জও রয়েছে।

বিকাল থেকে কিছু সিএনজি অটোরিক্সা বের হওয়ায় আমাদের রোজগার কিছুটা কমছে। ধর্মঘট থাকলে আমাদের ভাল। আরব আলী (৩৫) নামে গোলাপগঞ্জের এক রিক্সা চালক বলেন,ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের রোজগার ভালই হচ্ছে। তবে রিক্সার চার্জ কমে যাওয়ার পর থেকে যাত্রীদের নিয়ে বেশ দুরে যেতে পারছি না। তবে ব্যাটারী চালিত টমটম চালকদের বের হতে দেয়নি উপজেলার পরিবহন শ্রমিক নেতাকর্মীরা। তবে তারা গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পেরেছে।

সেলিম হাসান নামে এক যাত্রী বলেন,ঢাকাদক্ষিণ থেকে রিক্সায় ৭০টাকা দিয়ে গোলাপগঞ্জ সদরে এসেছি। কর্মস্থল সুমাগঞ্জ শহরে। অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ায় যেতে পারছি না। বিশেষ কাজে এসছিলাম বাড়ীতে। ৩দিন থেকে যেতে পারছি না। বেতন কাটা যাবে ওই তিনদিনের। ধর্মঘট ছাড়া অন্য সময়ে যে জায়গায় ১০টাকা ভাড়া ছিল ওই জায়গায় ৩০/৪০টাকা দিতে হয়েছে যাত্রীদের।

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪