তারেক জিয়া বলেছিলেন, জোটে না এলে দেশ ছাড়তে হবে: এরশাদ

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, “১/১১’র আগে তারেক (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান) আমার বাসায় এসে আমাকে হাওয়া ভবনে যেতে বললেন। বললেন, আপনি আমাদের সঙ্গে জোট করবেন এবং আপনাকে ১৮টি আসন দেয়া হবে। না হলে আপনাকে দেশ ছাড়তে হবে। আমি বললাম-আমার দল কী ১৮ সিটের দল? সে বললো- আপনাকে জামায়াতের চেয়ে বেশি সিট দেয়া যাবে না। নির্বাচনের খরচের বিষয়ে বললো- আপনার ১৮ প্রার্থীকে ভোটের আগে আমি নিজেই প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে দেবো। আমি ওর পিতৃসমতুল্য, সে আমার সঙ্গে এ ভাষায় কথা বলতে পারে-ভাবতেও অবাক লাগে।’

আজ শনিবার সুপ্রিমকোর্ট বার মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, তারপর আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু কি পেলাম? তারা আমার প্রতি অবিচার করলো। দল ভাঙ্গলো, আমাকে জেলে নিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করলো। সামনে নির্বাচন। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। গত কয়েকবছর অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি। আর হতে চাই না। ভেবে-চিন্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিব।

তিনি বলেন, আমার মত নির্যাতিত রাজনীতিবিদ আর দেখিনি। আমি ক্ষমতায় থেকে একদিনের জন্যও শান্তিতে দেশ চালাতে পারিনি। ৩৬৮দিন হরতাল দেয়া হয়েছে। এখনও শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। মামলায় জর্জরিত। আমি কী এমন খারাপ কাজ করেছি, কী অন্যায় করেছি? ১৪ বছর নয় মাস পর মঞ্জুর হত্যা মামলা করা হলো আমার বিরুদ্ধে। জিয়া হত্যার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত মঞ্জুর। অথচ তারা জিয়া হত্যার বিচার চায় না। যখনই মঞ্জুর হত্যার রায় ঘোষণার সময় হয়, তখনই জজ পরিবর্তন করা হয়।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের একটি হাসি গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তারা আজ মানুষ মরলে হাসে। তাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই। কোমলমতি শিশুরা রাজনীতি বুঝে না। তারা বাঁচতে চায়। তারপরেও তাদের ওপর ছাত্রলীগ যেভাবে হামলা করলো তা দুঃখজনক। পরিবহন শ্রমিকদের কাছে আমরা জিম্মি। বাস চলুক আর না চলুক, সরকারকে অনুরোধ করবো তাদের সঙ্গে কোনো আপোষ নয়। আইন সবাইকে মানতে হবে।

আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার প্রমুখ।