শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা যাত্রীরা

নিউজ ডেস্ক: বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নিয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বরে আশপাশের কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারছেন না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক সমকালকে বলেন, রাস্তাঘাটের যে অবস্থা তাতে ২-১টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদেশ ফেরত অনেক যাত্রী বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করছেন। গাড়ি চলাচল না করায় তারা বের হতে পারছেন না। 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এএসপি মাহবুব ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, সকাল ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বরে বিক্ষোভ করছেন। কোনো দিকেই গাড়ি চলতে পারছে না। ফলে বিদেশ ফেরত যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে বের হতে পারছেন না। তাদেরকে বাধ্য হয়ে বিমানবন্দরের ভেতরেই থাকতে হচ্ছে। তবে হজযাত্রী বহনকারী বাসগুলোকে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। 

বিভিন্ন এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, বিদেশগামী অনেক যাত্রী সময়মতো ফ্লাইট ধরতে পারছেন না। ফ্লাইটের শিডিউল পেছানো হয়েছে। ফ্লাইট খালি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিমানবন্দরের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগও চান তারা। গোলচত্বরে কয়েকজন ছাত্রকে বাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।

বুধবার সকাল থেকে ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, উত্তরা হাউস বিল্ডিং মোড় ও টঙ্গি এবং যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকা ঘুরে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ওইসব এলাকার সড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে সমকালের টঙ্গি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টঙ্গি সরকার কলেজ ও আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-গাজীপুর সড়কের পশ্চিমপাশে অবস্থান নিয়েছে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে ঢাকার দিকে থেকে যাওয়া সব ধরনের যানবাহন আটকা পড়েছে। এছাড়া উত্তরা হাউস বিল্ডিং মোড়েও রাস্তায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি জানান।

গত রোববার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬) নিহত হয়। ঘটনার পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে বিষয়টিকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন। 

এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিন দিন ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নেয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো ঢাকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। মঙ্গলবারও ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, টঙ্গিসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।