এ কি দৃশ্য! কি এমন ঘটেছিল,মেয়র প্রার্থী বুলবুল ও নারী আনসারের মধ্যে?

নিউজ ডেস্কঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের দিন একটি কেন্দ্রে

    বিএনপির

মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক নারী আনসার সদস্যের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনার আংশিক ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা শুনে বুলবুল আগে থেকেই রেগে ছিলেন। তাই ওই নারী আনসার সদস্যের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় তার।

সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টায় নগরীর স্যাটেলাইট উপশহর টাউন হাইস্কুলে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজের ভোট দেওয়ার কথা আগের দিনই জানিয়েছিলেন বুলবুল। কিন্তু তিনি ওই সময় ভোট দিতে যাননি। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে নগরীর বিলসিমলায় বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রে যান বুলবুল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রে একজন নারী মোবাইলে কথা বলছিলেন ও বারবার ভেতরে যাওয়া-আসা করছিলেন। তাকে নারী আনসার সদস্য ইয়াসমিন বাধা দেন। এই বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় বুলবুল ও আনসার সদস্য ইয়াসমিন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দুইজনের কথোপকথন-

বুলবুল: বিকেয়ারফুল।

ইয়াসমিন : আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?

বুলবুল: ধ্যাৎ মহিলা!

ইয়াসমিন : আপনার কী এভাবে কথা বলা উচিত? আর এই মহিলা (যাকে বাধা দেওয়া হয়) পাঁচ পাঁচবার মোবাইল নিয়ে প্রার্থী নিয়ে ঢুকাচ্ছে, এটাতো আমরা ঢুকতে দেবো না।

বুলবুল: ওই ওই!

ইয়াসমিন: আপনাদের হুমকি তো আমরা শুনবো না।

বুলবুল: এই এই বিকেয়ারফুল।

ইয়াসমিন : আপনাদের লোক, ওই মহিলা ছয়বার গেছে।

বুলবুল : কে বলেছে ছয়বার গেছে?

ইয়াসমিন : আমি বলছি তো।

বুলবুল : আমি বলছি তো বিকেয়ার ফুল! এই উইথড্রো করেন, একে উইথড্রো করেন।

ইয়াসমিন : না।

বুলবুল : ওই মহিলা।

ইয়াসমিন : আমাদের কাজের জন্যে আমরা আছি।

বুলবুল : ননসেন্স কোথাকার।

এ সময় সাধারণ ভোটাররা দুইজনকেই থামার অনুরোধ করেন।

ইয়াসমিন পরে বলেন, ‘ওনাকে আমরা ভালোভাবেই বলেছি। ওনারা দুইটা করে মহিলা আনছে আর নিয়ে নিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন। আমরা বলেছি আপনাদের ঢুকতে দিবো না। এটা আমরা কোনও অন্যায় করিনি তো? আর উনি যে একটা জনপ্রতিনিধি, উনি তো এভাবে কথা বলতে পারে না? আমরা উনার কাজ করছি না। আমরা তো ধমকাচ্ছি না।’

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক সৌরভ হাবিব বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ জানার জন্য বুলবুলের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এমন সময় আনসার সদস্যকে বিকেয়ারফুল বলে ধমকাচ্ছিলেন বুলবুল। তখন আমাদের ক্যামেরাপারসন মনিরুল ইসলামের ক্যামেরা চালুই ছিল। এতে করে ভিডিওটি ধারণ করার নির্দেশ দেই। এরপর ওই আনসার সদস্য ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসা করলে জানান, বিএনপির এক নারী এজেন্ট ছয়-সাতবার বাইরে যাওয়া-আসা করছে। তাকে (নারী এজেন্ট) নিষেধ করলে সে মেয়র প্রার্থী বুলবুলকে বলেন। এতে মেয়র প্রার্থী বুলবুল ক্ষিপ্ত হয়ে আনসার সদস্যকে ধমকাতে থাকেন। পরে বুলবুলকে আনসার সদস্যকে ধমকানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি না হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। এ অবস্থায় বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় কোনও মন্তব্য ছাড়াই আমার ফেসবুক ওয়ালে আপলোড দিলে ভিডিওটি ভাইরাল হতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের অনেকে আমাকে হুমকি ও গালিগালাজ করছে। এতে আমি শঙ্কিত।’

মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও এই বিষয়ে বুলবুলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এ ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘ভিডিওটি আমি নিজেও দেখেছি। পরে বিষয়টি জানতে পারলাম। নির্বাচনে অনিয়ম হচ্ছে জেনে বুলবুল ভাই ওই কেন্দ্রে যান। এতে তার মেজাজ খুব খারাপ ছিল। এ সময় নারী আনসার সদস্যরা আমাদের মহিলা এজেন্টকে বিরক্ত করছিল। তখন বুলবুল ভাই আনসার সদস্যকে বলতে গেলে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে যান। আসলে বুলবুল ভাই সাধারণত এ ধরনের আচরণ কারও সঙ্গে করেন না।’

রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসার এ ধরনের কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে জানাননি। আর আমি নির্বাচনে কাজে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি নজরে পড়েনি। আর আমার কাছে সে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নাম ও নম্বরটা নেই। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।’

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হাতেম আলী বলেন, ‘ওই ঘটনা (বাকবিতণ্ডা) ঘটেছে কেন্দ্রের বাইরে। এছাড়া ওই আনসার সদস্যও আমার কাছে কোনও অভিযোগ করেননি। তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে আর আগাইনি।’
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন