রাজশাহী-৫ পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে সাবেক এমপি ফারুক জনপ্রিয়তায় শীর্ষে

জাহিদুল ইসলাম জাহিদঃ
রাজপথে দেখা, মিছিলে কথা,আর অণল বর্ষী বক্তার তকমা যার ললাটে, তিনি আজ আপামর জনতার প্রিয় মুখ।গলি থেকে রাজপথ, যার অবাধ বিচরণ,বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দলীয় নের্ত্রীর
প্রতি অবিচল আস্থা,বিশ্বাস ও আনুগত‍্যের আরেক নাম তাজুল ইসলাম মোহাম্মাদ ফারুক।

বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ যেমন একটি অপরটি থেকে আলাদা করা যায় না,ঠিক তেমনি আওয়ামীলীগ ও তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।যার ধমণী শিরা উপশিরায় প্রবাহিত হচ্ছে মুজিব আদর্শের স্রোতধারা। জন নন্দিত এই নেতা শৈশব,কৈশর,যৌবনে অনেক চড়াই উৎরাই আর লড়াই সংগ্রামের পর রাজশাহী ও পুঠিয়া-দুর্গাপুরের আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

নির্লোভী এই নেতাকে হাজারো লোভ লালসা, প্রলোভন দেখিয়েও আওয়ামীলীগ থেকে আলাদা করা যায়নি।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজীবন দল,বঙ্গকন‍্যা শেখ হাসিনা ও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অগাধ আস্থায় অবিচল ছিলেন এবং আছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে এক দল নরপিচাশ, নরঘাতক চক্র বাঙালী জাতির পিতা,ইতিহাসের মহানায়ক,স্বাধীন বাংলার স্থাপতি,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত‍্যা করেছিল।তারা চেয়েছিল আওয়ামীলীগ শুন্য করে স্বাধীনতার চেতনা মুছে দিতে।৭৫-পরবর্তী দীর্ঘ সময় স্বৈরাশাসনকালে রাজশাহীতে প্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগকে নিজ সন্তানের মতো পিতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন জননেতা তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক। দলের ঐক‍্য ও সংহতির প্রতি অবিচল আস্থা ও দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি আনুগত‍্যকে জীবনের পাথেয় হিসেবে রাখতে গিয়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতও সহ‍্য করেছেন।

তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকের জন্ম রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার (৫ নং ঝালুকা ইউনিয়নের) আমগাছী গ্রামের এক সম্ভ্রন্ত মুসলিম পরিবারে।শৈশব পেরিয়ে,কৈশোরে যার সাথে পরিচয়,যৌবনে যার সাথে সখ্যতা, ছাত্র রাজনীতির আতুর ঘর থেকেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন।প্রগতিশীল এই মুক্ত চিন্তার রাজনীতিবীদকে রাজশাহীবাসি জানেন, একজন নিরাঙ্কারী, বিনয়ী,সৎ,আদর্শ, প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ হিসাবে। 

তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে ১৯৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনের মধ‍্য দিয়ে। তিনি ১৯৬৬ সালে ঈশ্বরদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।ছাত্রলীগের এই দায়িত্বে থেকেই তিনি স্থানীয় ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।এরপর তিনি ১৯৬৮ সালে রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৬৯ এর দূর্বার গণঅভ‍্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ
করেন এবং সর্বপোরি ১৯৭০ সনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ মার্তৃকার মুক্তির নেশায় মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন ।১৯৭৪ সালে তাজুল ইসলাম মোহাম্মাদ ফারুক মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন। তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেন।দুর্দিনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে সুসংগঠিত করে রাখার প্রতিদান হিসেবে তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন।১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে দূর্গাপুর উপজেলার চেয়ারম‍্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালে মুুুসলিমলীগের প্রার্থী কুখ‍্যাত রাজাকার আয়েন উদ্দিনকে পরাজিত করে পুঠিয়া-দূর্গাপুরে আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হন।তিনি তৃনমুল হতে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব দিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন।১৯৯২ সালে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৫ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক কারণে স্বৈরাশাসন আমলে তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুককে ফেরারী জীবন-যাপন করতে হয়।পুলিশি নিপীড়নের কারণে ১৯৮৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৮৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত আত্মগোপনে থাকেন।
কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব প্রদান করেন আত্মগোপনে থেকেই।
কৈশোর এবং যৌবনের বসন্তময় কোনো না,কোনো সময় কাটিয়েছেন কারগারের অন্ধকার প্রকৌষ্ঠে।জেল-জুলুম, হুলিয়া ও নির্যাতন মাথায় নিয়ে মুজিব আদর্শের ঝান্ডা তুলে ধরেছেন আপোসহীন এই মহান রাজনীতিবীদ। পুলিশের লাঠি,গুলি, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে রাজপথ প্রকম্পিত করে সমুজ্জল রেখেছেন নিজেকে।রাজনীতির পথ চলায় অভিভাবক সংগঠনের দায়িত্ব লাভ করেন নিজ কর্ম দিয়ে।বহুল আলোচিত মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রমাণপত্র সংগ্রহ করেন তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হারুন-অর রশিদ। একারণে তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকার হয়রানি মূলক মিথ‍্যা মামলা দায়ের করেন।রাজশাহীতে জঙ্গিউত্থান,
বাংলা ভাই বিরোধী আন্দোলনেও তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক ছিলেন স্বোচ্চার।

বর্ষীয়ান এই নেতা দলের দুর্দিনে যেমন মানুষের পাশে ছিলেন। ঠিক তেমনি এখনও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন নিজ এলাকার মানুষের সাথে। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আশা ভরসার স্থল হয়ে উঠেছেন। তাজুল ইসলাম মোহাম্মাদ ফারুক সন্ত্রাস,দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভয় প্রদীপ জ্বেলে আলোর পথ দেখাবেন তিনি,এমনটাই মনে করেন তাঁর নির্বাচনী এলাকা রাজশাহী-৫ পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ।তাঁর নেতৃত্বের সততা,যোগ্যতা গুনাবলী মানুষকে মন্ত্র মুগ্ধের মতো আকৃষ্ট করেছে। দৃঢ় চেতা এই মানুষটি সকলের স্বজন, অতি আপনজন হয়ে উঠেছেন।তিনি নিয়মিত এলাকায় জনসাধারণের সাথে মিশছেন,ঘুরছেন এবং পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে এগিয়ে চলেছেন দিবারাত্রি। দুচোখে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে মানুষের সুখ সমৃদ্ধির কথা ভাবছেন নিরন্তর।পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ মনে করেন এই মহান নেতার হাত ধরেই আসবে যত মঙ্গল কল্যাণ,উন্নতি অপার সমৃদ্ধি।

সংসদীয় আসন রাজশাহী-৫, বর্তমান সংসদ, বিগত সংসদ,আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে বেশ কিছু নেতা জনসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন।কিন্তু পুঠিয়া-দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষের মতামত,বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থার মাঠ জরীপে ও কেন্দ্রীয় নের্ত্রীবৃন্দের অভিমত অনুসারে সবার কাছে, প্রিয় ও সবার গ্রহণযোগ্য প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যডভোকেট তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক।