তিন সিটি নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ-অস্থিরতা বাড়ছে। বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরো অসত্য বলা যাবে না। যেকোনো সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত সবার জন্য সমান সুযোগ। নির্বাচন কমিশন সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সেই পরিবেশ তৈরি করতে তারা সচেষ্ট, সেটিও ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। ফলে ৩০ জুলাই অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে

চলে যান এবং তাদের হুকুম পালনে তাঁরা বাধ্য। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নানা বিতর্কের সৃষ্টি করে। এ কারণেই আমরা শুরু থেকে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলার কথা বলে আসছি। কিন্তু কমিশন মুখে সবার জন্য সমান সুযোগের কথা বললেও কাজ ও আচরণে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিন সিটিতে পাইকারি গ্রেপ্তারের ঘটনা না ঘটলেও সিলেটে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীকে দুই দফায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। প্রথমবার দলীয় কর্মীকে থানা থেকে ছাড়াতে, দ্বিতীয়বার পুলিশ বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করলেও তা স্বীকার না করায় তিনি পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে কর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এবং নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার প্রমাণ তুলে ধরে।

তবে রাজশাহীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক এ কারণে যে সাম্প্রতিককালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা এটাই প্রথম। এ ঘটনায় টেলিফোনের কথোপকথনের সূত্র ধরে পুলিশ বিএনপির একজন স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কাজ যারাই করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নিরীহ ও নিরপরাধ কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন।

এ ছাড়া রাজশাহীতে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াতের নারী কর্মীদের কুৎসা রটনার ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। যেকোনো ব্যক্তির অধিকার আছে তাঁর পছন্দসই প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করার। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অধিকার নেই।

শুরুতে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী পরিবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ঘটনা অস্থিরতা তৈরি করে। বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও ইসি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়ে এন্তার অভিযোগ এলেও প্রতিকার না করা দুর্ভাগ্যজনক।

পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিরোধী দলের প্রার্থীদের মধ্যে এই শঙ্কা আছে যে পুলিশ ভোটের দিন কিংবা তার আগের রাতে তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের পাকড়াও করতে পারে। অর্থাৎ আসল পরীক্ষা হবে ভোটের দিন। খুলনা ও গাজীপুরে বিএনপির এজেন্টদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতেও যেন সে রকম কিছু না ঘটে, সে ব্যাপারে ইসিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দিতে হবে, নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না।

তিনটি সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে তারা কোনোভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে না।

সূত্র: প্রথম আলো