পীরগাছায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন চারটি গ্রাম

নিউজ ডেস্কঃ   পীরগাছায় গত এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর ভাঙনে চারটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীনসহ প্রায় আটটি গ্রাম, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং একটি ক্লিনিক হুমকির মুখে পড়েছে। গত শনিবার সরেজমিনে ওই ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমিসহ বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে নদী পাড়ের লোকজন তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পাড়ে অবস্থিত শিবদেব চর, আমিন পাড়া, বৈরাগীপাড়াসহ চারটি গ্রাম গত সাত দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বর্তমানে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ওইসব পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এদিকে থেতরাই, জুয়ান, সদরা, পূর্ব ছাওলা ও চৌমুহনীসহ প্রায় আটটি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে গ্রামগুলোতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসা, একটি ক্লিনিক, তিনটি হাট-বাজার ও পাঁচটি মসজিদসহ প্রায় তিন হাজার পরিবারের মাঝে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে নদী পাড়ের লোকজন রাত জেগে সম্পদ রক্ষার শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙনে কয়েকশ’ একর জমিতে লাগানো কলাবাগান বিলীন হয়ে গেছে। ফলে নদী পাড়ের লোকজন চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতি বছর নদী পাড়ের লোকজনের। ছাওলার ১০নং বোল্ডারের পাড় থেকে আরো তিন কিলোমিটার বোল্ডার দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে নদী শাসন করলে এ গ্রামগুলো রক্ষা হতো। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ১নং ও ২নং বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলেও নদী ভাঙনের হাত থেকে গ্রামগুলো রক্ষা পাচ্ছে না।