মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাবেন

নিউজ ডেস্কঃ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা।

রোববার সবিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।

এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় মুক্তিযোদ্ধারা জনপ্রতি সরকারি হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৪ বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে ১৫ লাখ টাকা করে দেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের আনুপাতিক হারে জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও অনুদান পাঠানো হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা চালু করেছিল। কিন্তু সীমিত সম্পদের কারণে জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মহৎ উদ্যোগ। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেই মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় সম্মান ও গৌরবের সঙ্গে মাথা উঁচু করে পরিচয় দেওয়ার সাহস করেন মুক্তিযোদ্ধারা। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পাবেন। এটি কোনো করুণা নয়; তাদের প্রাপ্য এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবায় বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে ১৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কোন এলাকায় কতজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, তার ওপর এই অনুদানের পরিমাণ নির্ভর করবে। অনুদান প্রদানের পর ৭৫ শতাংশ টাকা ব্যয় হলে গেলে তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জানাতে হবে। এর পর চাহিদা অনুযায়ী আবারও ওই হাসপাতালে অনুদান দেওয়া হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।