ব্রিটিশ রানির হাত থেকে পুরস্কার পেল বাংলাদেশী তরুণ

নিউজ ডেস্ক: সম্প্র্রতি কুইন্স ইয়াং লিডার’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত আয়মান সাদিক ও জায়বা তাহিয়াকে নিয়ে অনেকেই গর্বভরে বলছেন, ‘দে আর ফ্রম বাংলাদেশ।’ তারা পুরো বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তাদের জয়গান। শুধু আয়মান ও জায়বা-ই নন, এই দুজনসহ এ পর্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কারটি অর্জন করেছেন ছয়জন। অন্য চারজন হলেন সামির শিহাব, ওসামা বিন নূর, সাজিদ ইকবাল ও রাহাত হোসেন। নানা নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে তরুণরা যখন প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়, তখন ব্রিটিশ রানির হাত থেকে পুরস্কারজয়ী এই তরুণদের সবার জন্যই অনুপ্রেরণা বলে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু কেন এই সম্মাননা, এবার সেটা জানা যাক।

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জনসংখ্যার প্রায় ষাট ভাগের বয়স ত্রিশের নিচে। এদের মধ্যে যাদের বয়স আঠারো থেকে ঊনত্রিশ, তাদের অনেকেই বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছেন। চারপাশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া এসব তরুণদেরকে উত্সাহ দেওয়ার জন্যই কুইন্স ইয়াং লিডার’স পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। কমনওয়েলথের প্রধান হিসেবে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে বসার ৬০ বছর পূর্তিকে উপলক্ষে করে কুইন এলিজাবেথ ডায়মন্ড জুবিলি ট্রাস্ট, কমিক রিলিফ ও দি রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছিল। এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশন বলেছে, ‘নিজেদের সমাজের মানুষের জীবনকে বদলে দেওয়ার কাজে যে তরুণেরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এ পুরস্কার। তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যত্, তারাই আনবে পরিবর্তন।’

এই শতকে মানুষের জন্য সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কথা বলতে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করতে হয়। নানাভাবে পরিবেশ দূষণ ও গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে পৃথিবীর জলবায়ুর খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে বৈষ্ণিক উষ্ণতা। যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে বড় রকমের পরিবেশগত বিপর্যয়। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনকে স্তিমিত করতে দ্রুত নানা ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে তরুণরা। এভাবে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, নারী নির্যাতন, লিঙ্গ বৈষম্যসহ অন্যান্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করছেন অনেক তরুণ। নিজ অবস্থান থেকে তারা সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে যেমন সামির শিহাব তার প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা দিচ্ছেন। অনেকটা একইরকম কাজ ‘চেঞ্জ’-এর প্রধান সাজিদ ইকবালের, যিনি পরিবেশবান্ধব বাতি ব্যবহারে মানুষকে উত্সাহ দিচ্ছেন। রাহাত হোসেনের প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিটিকালিংক’ স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো দুর্ঘটনায় তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিত্সা দিচ্ছে। জায়বা তাহিয়া কাজ করছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধে। আয়মান সাদিকের টেন মিনিট স্কুল অনলাইনের মাধ্যমে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ দিচ্ছে, সম্পূর্ণ বিনাখরচে। ওসামা বিন নূরের ‘ইয়ুথ অপারচুনিটিজ’ তরুণদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের এই ছয় তরুণের মতো কমনওয়েলথের ৫৩টি দেশের উদ্যমী তরুণদেরকে খুঁজে বের করতে প্রথমবার যখন কুইন্স ইয়াং লিডার’স পুরস্কারের ঘোষণা এলো, সেবার জমা পড়ে বেশ কিছু আবেদন। এর থেকে বাছাই করা হয় ষাটজনকে। এভাবে চারবছরে পুরস্কার পেয়েছেন ২৪০ জন, যাদের নিজেদের মধ্যেও চমত্কার যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। তারা নিজেদের কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে একে অপরের সাথে ভাবনা আদানপ্রদান করছেন। এই ২৪০ জন তরুণ বাকিংহাম প্যালেসে রানির হাত থেকে সম্মানজনক স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন বিশেষ প্রশিক্ষণ। কুইন্স ইয়াং লিডার’স অ্যাওয়ার্ডের জন্য একটি ফান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, পুরস্কার প্রাপ্ত তরুণদের সংগঠনগুলোকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে। এছাড়াও সাতদিনের ভ্রমণ, বিভিন্ন স্থান দর্শনসহ নানা সুযোগ পেয়েছেন তারা। সবচেয়ে বড় যে অর্জন, তা হলো বৈশ্বিক স্বীকৃতি। যেমন ছয় তরুণের স্বীকৃতি বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের নাম।