বিএনপি নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপায়: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপায়। নাটক করাই তাদের চরিত্র। এই দলটি নিজেরা অপরাধ করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে ও নাটক করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। যখন যা চাইছেন, তখনই তা দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে তিনি আয়েশ করে পায়েস খান। অথচ আদালতে হাজিরার সময় হলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন! এ রকম নাটুকেপনাই তিনি করছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার চলাকালে বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলা ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদকের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভোটের মাঠে জনগণের কাছে সাড়া না পেয়ে ‘ব্লেইম গেইম’ শুরু করেছে বিএনপি এবং হাতেনাতে ধরাও পড়েছে। সবখানে তারা একটা নাটক করে আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এটা তাদের চরিত্র।

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন সিটিতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচার চলছিল। হঠাৎ দেখা গেল রাজশাহীতে বিএনপির মিছিলে বোমা হামলা। তাদের মিছিলে তিনটি ককটেল ফুটলো। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিল, এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করার জন্য। পরে দেখা গেল, তাদের (বিএনপি) নিজেদের ভাষায় বেরিয়ে এলো, এটা তারা নিজেরাই করেছে। শুধু আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করার জন্য।

শেখ হাসিনা বলেন, নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষারোপ করে সেটাকেই আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া- এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস। তারা নিজেরাই হত্যাকাণ্ড ঘটায়, বোমা মারে, নিজেরাই গাড়ি ভাঙে। এরপর আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপায়। এ অভ্যাসটা তাদের আছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সবখানে তারা একটা নাটক করে আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এটা তাদের চরিত্র। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আগুন দেওয়া, বোমা মারা, গ্রেনেড হামলা করা- এগুলোই তারা করে। তারা সিলেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর হামলা করেছে। তিনি বেঁচে গেছেন, কিন্তু তার নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন লাগিয়েছে। তারা কামরানকে মারতে দুই দুইবার তার ওপর হামলা করেছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নানারকম খেলাও শুরু হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ নীতি-আর্দশ নিয়ে দেশকে যেভাবে গড়ে তুলছে, উন্নয়ন করেছে, সেটি অব্যাহত থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। আর মানুষ যেন ভালো থাকে- সেটাই আওয়ামী লীগ সরকার চায়।

বিএনপি শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সিলেটে শাহ এএমএস কিবরিয়াকে হত্যা করেছে। এভাবে সারা বাংলাদেশে তারা আওয়ামী লীগের অগনিত নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। বিএনপি ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করতে পারে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারতে পারে। দেখা যায় তারাই হত্যাকাণ্ড চালায়, তারাই প্রচার করে। দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। এ ধরনের নাটক করায় তারা যথেষ্ট পারদর্শী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে জেলে গেছেন। জেলখানায় তিনি খান-দান, শুয়ে থাকেন। খোঁজ-খবর তো সরকারও রাখে। তাকে গৃহপরিচারিকা দেওয়া হয়েছে। স্পেশাল খাট, স্পেশাল গদি কোনো কিছুই তো কম দেওয়া হয়নি। এয়ারকন্ডিশন- সব ব্যবস্থাই রয়েছে জেলখানায়। যা যা চাচ্ছেন তাই পাচ্ছেন। এরকম আয়েশ করে আর কেউ তো পায়েস খেতে পারেননি, যেটা তিনি খাচ্ছেন। তিনি বেশ আরাম-আয়েশ করে থাকেন, সমানে লোকজন গিয়ে দেখা করেন। আর যেই মামলার তারিখ আসে, হাজিরার তারিখ পড়ে, তখনই তিনি অসুস্থ হয়ে যান! আদালতে হাজিরা এড়াতে খালেদা জিয়াও নাটুকেপনা করছেন। নাইকো দুর্নীতি মামলায় এফবিআই বসে আছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। খালেদা জিয়া জানেন যে আদালতে গেলেই ধরা খাবেন। তাই আদালতের হাজিরার তারিখ এলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর হাজিরার তারিখ চলে গেলে আবারও ভালো হয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিও তো অনেককে জেলে রেখেছিলেন। সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান জামালউদ্দীনকে জেলখানায় নিয়ে দুটি কম্বল দিয়ে ফেলে রেখেছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ কিংবা অন্যদের কথা না হয় নাই বললাম।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে জেলে গেছেন। সরকারের কাছে মুক্তির দাবি করে তো লাভ নেই। কারণ জেলে তো তাকে সরকার দেয়নি। সরকার তো জীবনেও তাকে ছাড়তে পারবে না, যতক্ষণ না আদালত নির্দেশ দেবে। দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। আর ১০-১১ বছর মামলা চলার পরই সেই মামলার রায়ে খালেদা জিয়া জেলে গেলেন। তার বাঘা বাঘা আইনজীবীরা তো কোনোভাবেই প্রমাণ করতে পারলেন না, এতিমের টাকা খালেদা জিয়া কিংবা তার পরিবারের কেউই নেননি। কাজেই এখানে সরকারের কিছু করারও নেই।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অসুস্থ তো খালেদা জিয়া আগাগোড়াই। তার হাঁটু দুইবার অপারেশন করা হয়েছে, রিপ্লেসও করা হয়েছে। এ সমস্যাগুলো তো তার আছেই। কিন্তু ওই অবস্থায়ও তো তিনি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেন, থামেননি। পুড়িয়ে মারা, অত্যাচার করা, তাদের পেট্রোল বোমায় তো গরু-মুরগিও রেহাই পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কেবল নয়, তারা এমনকি আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলেকে পর্যন্ত হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছে। চুরি করে দুর্নীতি করে এত টাকা কামিয়েছেন যে, এফবিআইর কর্মকর্তা পর্যন্ত তারা কিনে ফেলেছেন। সেখান থেকে ষড়যন্ত্র করেছে জয়কে তুলে নিয়ে মেরে ফেলার। এরকম একের পর এক ঘটনা তারা ঘটাচ্ছেই।

শেখ হাসিনা বলেন, অপকর্ম করে তারা দেশটাকে পিছিয়ে রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের ভালো লাগে না, খারাপ লাগে। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী সম্মান পাচ্ছে- তখনই তাদের অন্তর্জ্বালা শুরু হয়েছে। কারণ, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে তাদের ঘরসংসার। তাদের নিয়ে তাদের দল, তাদের নিয়ে ক্ষমতা। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দেশের উন্নয়ন ভলো লাগবে না, সবকিছুতেই তারা খারাপ দেখবে।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সোমবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করতে হবে। এই বৈঠকে ইশতেহার প্রস্তুতের জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে নিয়ে কী চিন্তা করে, সেটিই ইশতেহারে তুলে ধরতে হবে। আর গত নির্বাচনী ইশতেহারে কী কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার হিসাবও নিতে হবে। তবে এটুকু বলতে পারি আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি কাজ করতে পেরেছে। সরকার দেশের উন্নয়ন করেছে, এই উন্নয়নের ছোঁয়া সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে। আগাম বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে জানিয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতেও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নেতারা যোগদান করেন।