প্রধানমন্ত্রীকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ গণসংবর্ধনা দিল আওয়ামী লীগ

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের ইতিহাসে সর্ব বৃহৎ গণসংবর্ধনা দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রমান করল আওয়ামী লীগ।

কোন ধরনের ষড়যন্ত্র ছাড়া জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মতো কোন রাজনৈতিক দল যে দেশে নেই সে কথাও স্মরণ করে দিল দলটির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৬ মাস আগে দেশকে স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনিত করা, গ্লোবাল উইমেন লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন, ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রী লাভ ও মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানোসহ নয় বছরের সরকার পরিচালনায় বর্তমান সরকারের অনন্যসাধারণ উন্নয়ন ও অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ উপলক্ষে সকাল দশটা থেকেই ঢাকার আশেপাশের জেলা ও মহানগর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমেবেত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ছবিসহ বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন নেতা-কর্মীদের হাতে দেখা যায়।

মিছিলে দলীয় নেতা-কর্মীদের দেশাত্মবোধক গানের তালে তালে ব্যান্ডপার্টি ও বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তারা শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য, শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার, মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই প্রভৃতি শ্লোগান দেয়।

ঢাকার আশেপাশের জেলার ও মহানগরের নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন মিছিল সহকারে গণসংবর্ধনায় যোগদান করেন।

তাছাড়াও রাজধানী ঢাকা ও তার আশেপাশের জেলার আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য ও আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বিশাল বিশাল মিছিল সহকারে গণসংবর্ধনায় যোগদান করেন।

দুপুর বারোটার মধ্যে গণসংবর্ধনার বিশাল প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। প্যান্ডেলের ভেতর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১২টার পরে আসা নেতা কর্মীরা প্যান্ডেলের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের খালি জায়গায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকে তারা প্রজেক্টরের মাধ্যমে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

বিকেল তিনটার পর পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্রে পরিনিত হয়। লোক সংকুলান না হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সকল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হাইকোর্টের সামনের শিক্ষাভবন মোড় থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমী, টিএসসি, শাহবাগ, কাটাবন ও বাংলামোটর পর্যন্ত পুরো এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে যায়।

তবে শনিবার সরকারী ছুটির দিন হওয়ায় এবং এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জনদুর্ভোগ যাতে না হয় তা বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় রাজধানীবাসীকে বড় ধরনের যানজটের কবলে পড়তে হয়নি।

দুপুর ১২ টা থেকে দেশের বরেণ্য শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও বাউল গান পরিবেশন শুরু করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে আবৃত্তি অনুষ্ঠান। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাউল স¤্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম এমপি, কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, এস ডি রুবেল, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, সালমা, আশরাফ উদাস ও ফকির শাহাবুদ্দিন প্রমূখ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল সাড়ে তিনটায় গণসংবর্ধনা মঞ্চে এসে উপস্থিত হন। তিনি মঞ্চে এসে হাজির হলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী দাড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নাড়িয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় এক অনিন্দ সুন্দর পরিবেশের অবতারণা হয়।
এ সময় মমতাজ বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অর্জনের ওপর ভিত্তি করে রচিত দু’টি গান পরিবেশন করেন।

এরপর আবাহমান বাংলার সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়। তারপর নন্দনকলার পরিবেশনায় আরো একটি গীতি নাট্য পরিবেশিত হয়। তারপর ‘তুমি শেখ হাসিনা, তুমি অনন্যা’ শিরোনামে আরো একটি গান পরিবেশিত হয়।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

পরে মানপত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগকে তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়ায় সফল নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে তাঁকে (শেখ হাসিনা) অভিনন্দন জানান।
ওবায়দুল কাদের পঠিত মানপত্রে বলা হয়, আপনার সফল নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়ন ও অর্জনে গোটা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। উন্নত বিশ্বের কাতারে শামিল হওয়ার আকাঙ্খা এখন আর খুব বেশী দূরে নয়।পদ্মা সেতু, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী ট্যানেল ও অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েসহ দেশের মেঘা প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়নের পথে।

সমুদ্রসীমা জয়, স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন গোটা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। সামরিক স্বৈরশাসনের অবসান, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আপনার সফল নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আপনার সফল নেতৃত্বে শুধু জল ও স্থল নয়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানের মাধ্যমে অন্তরীক্ষও জয় করা সম্ভব হয়েছে। আপনার এ উন্নয়ন ও অর্জনের জন্য পুরো জাতি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। মানপত্রে বলা হয়, বাঙ্গালী জাতিকে একটি জাতিরাষ্ট্র উপহার দেওয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমন যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালী মানসে অমর হয়ে থাকবেন তেমনি আপনিও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সফল নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাঙ্গালী জাতির মনে চীর জাগরুক হয়ে থাকবেন।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোন বিকল্প নাই। তাই আমি আশা করি, আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে অব্যাহত রাখবেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, দলীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।