ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ১৪ বিঘা জমি ফিরিয়ে দিতে হবে

সুমন দত্ত : ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ১৪ বিঘা জমি উদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দির ৬ বিঘা জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এটি একটি জাতীয় মন্দির। কিন্তু জাতীয় মন্দিরের চরিত্র এটি বহন করে না বলে জানান সংগঠনের নেতারা। এখানে ভিআইপিরা এলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেন না তারা।

শুক্রবার মন্দির মেলাঙ্গনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। পবিত্র গীতাপাঠ করেন বরুণ চক্রবর্তী। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সাইকি। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চ্যার্টাজী ও সেক্রেটারি শ্যামল রায়সহ অন্যান্যদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা আপনারা ফেরত পাবেন। এই সরকারের আমলেই আপনারা পাবেন। কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। আপনারা সবাই মিলে একটি কমিটি করেন। সেই কমিটির কাছে আপনারদের জায়গা ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমি যখন এই মন্দিরে আসি তখন মনে হয় নিজের পরিবারের কাছে আসলাম। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আমরা বিগত দশ বছর ক্ষমতায় থেকে সেটা কমিয়ে এনেছি। তিনি বলেন, জন নেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প আপনাদের কাছে নেই।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবার আপনারা অনুষ্ঠানের সময় জমি উদ্ধারের কথাটি বলেন। তারপর দেখা যায় আরেক অনুষ্ঠানে এই একই কথা বলছেন। সারা বছর আপনাদের নীরব থাকার কারণ কি? আপনারা এখানে অনেক আইনজীবী আছেন। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি কমিটি করেন। জমি উদ্ধার হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ নেতা পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, আমি এখানে যা বলবো তা আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে বলবো। আমি হিন্দু লীগের নেতা হয়ে বলবো না। হিন্দু লীগের নেতা হয়ে বললে আমাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে না। তিনি বলেন, জমি উদ্ধারের জন্য কমিটি করতে হবে কেন? একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই তো জমি উদ্ধার হয়ে যেতে পারে। যারা জমি দখল করে বসে আছে তারা সরকারের কাছে যাবে। সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি উদ্ধার করে দেবে। সম্পত্তি দেবোত্তর হয়ে থাকলে তা কেউ মালিক সেজে হস্তান্তর করতে পারে না। তাই আজ আযম গ্যারেজ কিংবা মোমিন মোটরস যারা আছেন দখলদার তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে যেকোনো সময় উচ্ছেদ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, জমি উদ্ধারের জন্য আমি ডিফেনসিভ খেলবো কেন? আমি খেলবো অফেনসিভ।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আজ এখানে এসে আমি অনেককে বলতে শুনি ধর্ম যার যার, উৎসব সবার কিংবা রাষ্ট্র সবার। নেতা মন্ত্রীগণকে বলতে চাই, এ কথা হিন্দু কিংবা খ্রিস্টানদের বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন বলেন? অথবা বৌদ্ধদের অনুষ্ঠানে কেন আপনারা বলেন? কেন আপনারা মিলাদ মহফিলে কিংবা ইসলামিক কোনো অনুষ্ঠানে এসব বলেন না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখবেন আবার ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সংবিধানে রাখবেন। এমন জগাখিচুড়ী সংবিধান আমরা চাই নাই।

ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সাইকি বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং কিছুদিন আগে এখানে এসে ছিলেন। তিনি এই মন্দির দেখে খুশি হয়েছিলেন। তিনি মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজন দেখে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি এই সংগঠনের সফলতা কামনা করেন।

ডিএমপির কাউন্টার টেরেরিস্ট কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, মন্দিরের জমি বেহাত হয়ে গেলে তা প্রতিরোধ করার আহবান জানান। তিনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন হিন্দু সম্প্রদায়কে সহায়তা করে যাবেন বলে জানান।