রোগীর নাতনীকে ধর্ষণের অভিযোগে চিকিৎসক গ্রেফতার

নিউজ ডেস্কঃ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দায়িত্বরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মাকামে মাহমুদ। রোববার গভীর রাতের এ ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দিনভর চেষ্টা চলে। তবে ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার শাস্তি ও বিচাররের দাবিতে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক মাকামে মাহমুদকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার দস্তগীর।

এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেয়েটি একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে তার পরিবারের সঙ্গে সিলেট নগরীতে থাকে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা জানান, তার মাকে (মেয়েটির নানি) গত ৯ জুলাই ওসমানী হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডা. মাকামে মাহমুদ।

তিনি জানান, ১০ জুলাই তার ভাগ্নী (ওই কিশোরী) নানীকে দেখতে এসে হাসপাতালে থেকে যায়। রোববার রাত দেড়টার দিকে তার খোঁজ মিলছিল না। বেশ কিছু সময় পর ভাগ্নী তার মায়ের কাছে আসার পর তাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল। একপর্যায়ে তার ভাগ্নী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ওপর নির্যাতনের কথা জানায়।

মেয়েটির মামা আরও জানান, ঘটনা শোনার পর রাতেই তিনি এবং তার ভাইয়েরা মিলে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে ডা. মাকামে মাহমুদকে চাপ দিলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে তাকে বিশ্রাম কক্ষে আটকে রেখে হাসপাতালের পুলিশকে খবর দেন তারা। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পের এসআই মোহাম্মদ পলাশ এসে চিকিৎসককে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যান। সোমবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মাকামে মাহমুদ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটআনি বাজারের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তার মুক্তির দাবিতে সোমবার সকালে হাসাপতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা প্রশসানিক ব্লকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে মূল ঘটনা জানার পর বিক্ষোভকারী সরে যান।

মেয়ের বাবা জানান, ডা. মাকামে মাহমুদ তার মেয়ের হাত থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নম্বরটি নিয়ে যান। এরপর তাকে মোবাইল ফোনে নানির পরীক্ষার কাগজপত্র দেখার কথা বলে ডক্টর রুমে যাওয়ার কথা বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তার হাতে একটি অ্যাপ্রোন ধরিয়ে চতুর্থ তলায় যাওয়ার জন্য বলেন। ওই রাতে মহিলা ওয়ার্ডের গেটও লাগানো ছিল না। তিনি জানান, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে, তার মেয়েকে রাত দেড়টার দিকে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেতে। তখন গেটে কোনো তালা দেওয়াও ছিল না। অথচ প্রতিদিন রাত ১২ পটার পরপরই গেট বন্ধ করা হয়।

মেয়ের আরেক মামা জানান, ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনেক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ড. একেএম মাহবুবুল হক, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছাহক এবং পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, আমরা ন্যয্য বিচার চাই। আমরা এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মাহবুবুল হক বলেন, বিষয়টি শোনার পরপরই আমরা বৈঠকে বসি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের বাবা থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন। মামলা রেকর্ড হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।সূত্রঃ সমকাল