জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং বৃক্ষমেলা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৮ জুলাই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ আয়োজন করা হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তিন মাসব্যাপী এ আয়োজনের অংশ হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ বীর শহিদের অমর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ৩০ লক্ষ গাছের চারা রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ইতিবাচক প্রভাব রাখতে প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিবেচনায় সরকারি উদ্যোগে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক সামাজিক বনায়ন শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করছে না, এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, জলবাযু পরিবর্তন অভিযোজন এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই; নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই’। প্রতিপাদ্যকে সার্থক করে তুলতে আমি দেশবাসীকে অধিক হারে বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি দেশের বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষায় সকলকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বছর ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৭’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০১৮’ পুরস্কারপ্রাপ্ত সকলের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সকলের অব্যাহত প্রচেষ্টায় এ বছরের বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল হোক- এ প্রত্যাশা করি।

আমি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ জুলাই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বীর শহিদের স্মৃতির সম্মানে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ শুরু হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার’র এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই; নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বৃক্ষ আমাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ নৈসর্গিক শোভা বর্ধনে বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, ঘরবাড়ি ইত্যাদি ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে কিছু বৃক্ষের জীবনহানি ঘটছে। কিন্তু এগুলি আমাদের দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে হবে। শহরে গাছপালা লাগিয়ে নাগরিক জীবনে স্বস্তি আনতে হবে। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে ও পরিবেশ রক্ষায় পার্কে সবুজের সমারোহ শহরের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সহায়তা করে। নগর বনায়ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আমরা অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বৃক্ষরোপণ অভিযান গতিশীল করেছি। বৃক্ষরোপণ আন্দোলন একটি স্থায়ী, চলমান ও স্বতঃস্ফূর্ত কার্যক্রম। এ কাজে সবাইকে অনুপ্রাণিত ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণে যারা বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন, তাদের প্রতিবছর ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিকে প্রতিবছর ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ প্রদান করা হয়।

এ বছর যারা ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৭’ ও ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ২০১৮’ এবং যে সকল উপকারভোগীগণ সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ পাচ্ছেন তাঁদেরকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

আমি নগরে বসবাসকারী মানুষের জীবনকে সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রশান্তিময় করার জন্য নগরে উপযুক্ত প্রজাতির গাছপালা রোপণে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪