ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যানকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: পানামা পেপার্সে নাম আসা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজাকে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঞা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দুদক থেকে আমার ট্যাক্স ও ভ্যাটের কাগজ চাওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো আমি দুদকে জমা দেবো।

এদিন ইউনাইটেড গ্রুপের পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান শামীমকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সোমবার সকাল ১০টায় হাসান মাহমুদ রাজা ও বেলা ১২টায় মইনুল আহসান শামীম দুদক কার্যালয়ে যান।

পানামা পেপার্সে নাম আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইউনাইটেড গ্রুপের আরও দু’জনকে সোমবার জিজ্ঞাসবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য। তারা হলেন- কোম্পানির পরিচালক আহমেদ ইসমাইল হোসেন ও আখতার মাহমুদ।

গত ৮ জুলাই এই চার জন এবং প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা তিন ব্যবসায়ীকে তলব করে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা আখতার হামিদ ভূঞার সই করা একটি নোটিশ পাঠানো হয়।

প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা তিন ব্যবসায়ী হলেন- ডব্লিউএমভি লিমিটেডের এরিক জোহান অ্যান্ডারস উইলসন, ইন্ট্রেপিড গ্রুপের ফারহান আকিবুর রহমান ও সেলকন শিপিং কোম্পানি মাহতাবা রহমান। তাদেরকে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ২০১৬ সালের মে মাসে পানামার ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকার বিপুল সংখ্যক নথি ফাঁস করে দেয়, যা পানামা পেপারস নামে পরিচিতি পায়।

এসব নথিতে বিশ্বের ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য বেরিয়ে আসে।

পানামা পেপার্সে দেড় ডজন বাংলাদেশির নাম আসার পর দুদক তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করে। ওই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ২০১৭ সালের শেষ দিকে বারমুডার ল ফার্ম অ্যাপলবির গ্রাহকদের ১ কোটি ৩৪ লাখ নথি ফাঁস করে আইসিআইজে। সেখানে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরসহ আরও দেড় ডজন বাংলাদেশির নাম আসে।