রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৪ জুলাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই -এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি একই সাথে অভিনন্দন জানাই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

গত বছর ৩০শে নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে অভিজাত ‘নিউক্লিয়ার ক্লাবের’ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আরো গতিশীল হবে। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে মানবকল্যাণসহ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে- এ প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করতে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি আজ স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায় বিকশিত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আজ আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: ‘‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

মাত্র সাত মাস আগে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে, প্রথম ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই শুরু করা হয়েছে । সে ইউনিটের নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এবার শুরু হলো দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ। নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ আমরা সম্পন্ন করতে সমর্থ হব বলে আমি বিশ্বাস করি ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের স্বপ্নযাত্রার শুরু ১৯৬১ সালে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। স্বাধীনতার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাঁর অকালমৃত্যুতে তা স্তিমিত হয়ে যায়। আমরা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সে উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি ।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সে মহাপরিকল্পনারই অংশ। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আমাদের জাতীয় গ্রিডে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা সংবলিত প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এ কেন্দ্র ।

জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। আমি আশা করি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এবং সরকারের রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক সাফল্য কামনা করি ।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪