ভাঙন হুমকির মূখে কামারজানি দূর্গামন্দির

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতা আর নদী ভাঙন কাজে অধিক পরিমানে দূর্ণীতির ফলে ভাঙন হুমকির মূখে বিলিন হতে বসেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামের সার্ব্বজনীন দূর্গামন্দিরটি।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৩ইং সালে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্দ্যোগে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিতে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা অর্চনাসহ প্রতি বছর হিন্দু স¤প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজার আয়োজন করা হতো। আর এ আয়োজনকে ঘিরে গোটা কামারজানি জুড়ে বইতো উৎসবের আমেজ। এলাকার ছেলে-মেয়েরাসহ দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে দূর্গাপূজা উৎসবে মেতে উঠত। কিন্তু এখন কালের বিবর্তনে সবকিছুই স্মৃতি হয়ে রইছে, এমনটাই জানালেন এলাকার বাসিন্দা সুমতি, শম্বারি ও বিজলী রানী।

স্থানীয় বাসিন্দা শুকনি ও লাল চাঁন জানান, এক সময় এলাকাটিতে জমিদার বাড়ি ছিল। এ এলাকার জমিদার ছিলেন, জোগেন বাবু। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সে সময় এলাকায় কোন অতিথি আসলে তিনি খুব সম্মান করতেন। কিন্তু এখন সে জমিদার বাড়িটিও আর নেই। রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র সব খেয়ে ফেলেছে। তিনি আরও জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতা আর ভাঙন রোধে অধিক পরিমানে দূর্ণীতির কারণে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। যদি সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল­না গ্রহন করতো তাহলে আজ আমাদের পথে বসতে হতোনা।

স্থানীয় উন্নয়নকর্মী সাদ্দাম হোসেন পবন জানান, বর্তমানে মন্দিরটিতে গণপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদীত মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম- (৩য় পর্যায়) হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণট্রাষ্ট, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গাইবান্ধার অধিনস্থ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। বর্তমানে সেখানে অর্ধশতাধিকের মত শিশু শিক্ষা গ্রহন করছে। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে যদি মন্দিরটি বিলিন হয়ে যায়, তবে এসব শিশুদের লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে সার্বজনীন দূগামন্দিরটি রক্ষা করে শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনটাই প্রত্যাশা একাবাসীর।