বিএফইউজে নির্বাচন: মহাসচিব শাবান মাহমুদ

নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সারাবাংলা ডটনেট ও গাজী টিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি শাবান মাহমুদ। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাগরিক টিভির দীপ আজাদ।ভোটগণনা নিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদে ফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনার পর এই পদের ফল ঘোষণা করা হবে।

বিএফইউজে নির্বাচন: শুক্রবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় বিএফইউজের নির্বাচন। সারাদেশে একযোগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে রাত ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. উৎপল কুমার সরকার পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট।

মহাসচিব পদে শাবান মাহমুদ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকারিয়া কাজল পেয়েছেন ৭শ’ ভোট।

কোষাধ্যক্ষ পদে দীপ আজাদ ১৩৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মধুসূদন মণ্ডলের ভোট ৮০৫টি।

দপ্তর সম্পাদক পদে বরুন ভৌমিক নয়ন ৭২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেমায়েত হোসেন পেয়েছেন ৬১৪ ভোট।

যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল মজিদ (৪১৭)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসিমা আখতার সোমা ৩৩৪ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন-শেখ মামুনুর রশীদ ৮৬৬ ভোট পেয়ে, নূরে জান্নাত আখতার সীমা ৭১০ ভোট পেয়ে, সেবিকা রানী ৬২১ ভোট পেয়ে ও খায়রুজ্জামান কামাল ৬২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে সভাপতি পদ প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলমগীর হোসেন জানান, সভাপতি পদপ্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন তা ফের গণনা করা জানানো হবে।

এবারের নির্বাচনে ফারুক-শাবান-দীপ পরিষদ ও জলিল-কাজল-মধু পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন। ফারুক-শাবান-দীপ পরিষদে সভাপতি পদে ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও মহাসচিব পদে শাবান মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব রফিকুল ইসলাম সবুজ, কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, দফতর সম্পাদক পদে হেমায়েত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাহী সদস্য ছিলেন স্বপন দাসগুপ্ত, মফিদা আকবর, শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু ও নুরে জান্নাত সীমা।

জলিল-কাজল-মধু পরিষদে সভাপতি পদে আবদুল জলিল ভুঁইয়া, সহ-সভাপতি ড. উৎপল কুমার সরকার ও মহাসচিব পদে জাকারিয়া কাজল, যুগ্ম-মহাসচিব নাসিমা আক্তার সোমা, কোষাধ্যক্ষ মধুসূদন মণ্ডল, দফতর সম্পাদক পদে বরুণ ভৌমিক নয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এছাড়া এই পরিষদে নির্বাহী সদস্য পদে, জহুরুল ইসলাম টুকু, খায়রুজ্জামান কামাল, শেখ মামুনুর রশিদ ও আখতার জাহান মালিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্যানেলের বাইরে স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে মোল্লা জালাল, কোষাধ্যক্ষ পদে নজরুল কবির, যুগ্ম-মহাসচিব পদে আবদুল মজিদ, খায়রুল আলম, দীপংকর গৌতম, ফজলুল হক বাবু ও মানিক লাল ঘোষ, দফতর সম্পাদক পদে রেজাউল করিম রেজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সেবিকা রানী, মীর আফরোজ জামান, আবদুল খালেক লাভলু, শামসুর রহমান ও আখতার জাহান মালিক।

ঢাকায় মোট ৩ হাজার ২৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১ হাজার ৯১৮ জন। সনাতন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হলেও গণনা করা হয় মেশিনে (ইভিএম)।

বিএফইউজে নির্বাচন: ফল ঘোষণার আগেই সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোল্লা জালাল ও তার সমর্থকদের দাবি প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ফের গণনা শেষে পরবর্তীতে ফল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব ও এর আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে মঞ্চ এবং প্রেসক্লাব চত্বরে অত্যন্ত সুশৃংখল পরিবেশে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেসক্লাব এবং এর আশপাশে এলাকা ছেয়ে যায় প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, প্লেকার্ডে।

ভোট চলাকালে কেন্দ্র আসা ভোটাররা জানান, বিএফইউজে নির্বাচনে নেতৃত্বে আনা হবে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিকে। সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় এই ইউনিয়নের সঠিক নেতৃত্ব দিতে হলে যোগ্য ও পেশাদার সাংবাদিকদের নেতৃত্বে আনতে হবে।