যশোর,বগুড়া ও টাঙ্গাইলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩!

নিউজ ডেস্কঃ যশোর, বগুড়া ও টাঙ্গাইলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে যশোর ও বগুড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ দুইজন এবং টাঙ্গাইলে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরেকজন নিহত হয়।পুলিশ ও র‌্যাব বলছে, নিহত তিনজনই মাদক ব্যবসায়ী।

যশোর: য‌শো‌রের চৌগাছায় দু’দল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘বন্দুকযু‌দ্ধে’ রতন (২৭) না‌মে এক যুবক নিহত হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।নিহত রতন চৌগাছা উপজেলার দিঘল‌সিংহা গ্রা‌মের আবু বক্কা‌রের ওরফে বাক্কার ছে‌লে।

চৌগাছা থানার ও‌সি খন্দকার শা‌মিম উ‌দ্দিন জানান, কয়ারপাড়া এলাকায় দু’দল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘গোলাগু‌লি’ হ‌চ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ভোররাতে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পা‌লি‌য়ে যায়। এসময় সেখা‌নে অজ্ঞাতপরিচয় একজ‌নের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনা‌রেল হাসপাতা‌ল ম‌র্গে পা‌ঠায়।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে এক‌টি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গু‌লি ও ২শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহতের স্বজনরা লাশটি রতনের বলে শনাক্ত করে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলাসহ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে।

তবে নিহ‌তের বাবা আবু বক্কর ও মা ফ‌রিদা বেগমের দাবি, রতন মাগুরার এক লোকের কাছে টাকা পেত। বৃহস্প‌তিবার দুপুরে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ওই লোক তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। দুপুর আড়াইটার দি‌কে মটরসাই‌কেল নিয়ে বা‌ড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফেরেনি রতন। শুক্রবার ভোরে য‌শোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থে‌কে তাদের পূর্ব পরিচিত এক ব্যক্তি মোবাইলে ফোন করে জানায়, হাসপাতালে রত‌নের মত দেখ‌তে একজ‌নের লাশ র‌য়ে‌ছে। পরে সেখা‌নে গি‌য়ে তারা ছেলের লাশ শনাক্ত ক‌রেন।
রতন আগে মাদক ব্যবসা করলেও গত ২/৩ বছর ধরে তা ছেড়ে দিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তার বাবা-মা।

বগুড়া: বগুড়া শহরের ভাটকান্দী ব্রিজের পূর্বদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুতু সরকার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত পুতু সরকার শহরের চক সুত্রাপুর এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ বলছে, নিহত পুতু সরকার স্থানীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ‘মাদকের গডফাদার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি পাইপগান, আট রাউন্ড গুলি এবং ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খবর আসে শহরের ভাটকান্দী ব্রিজের পূর্ব দিকে দুই দল দুস্কৃতকারী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এরপর নিকটবর্তী বনানী ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। তবে টের পেয়ে দুস্কৃতকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এরপর দুস্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে একজনকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঘটনাস্থলে মাদক পাওয়া গেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে যারা গোলাগুলিতে লিপ্ত ছিল তারা মাদক ব্যবসায়ী।’

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, ‘পুতু সরকারকে আমরা খুঁজছিলাম। কিন্তু পাচ্ছিলাম না। মাদক ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা গেছে।’

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল গ্রামে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।নিহত আফজাল বেগুনটাল গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

টাঙ্গাইল র‌্যাবের কমান্ডার মেজর রবিউল ইসলাম জানান, আফজাল তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বেগুনটাল গ্রামে মাদক বেচাকেনা করছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালায়।

তিনি জানান, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালালে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে মাদক ব্যবাসায়ীদের ওপর পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে সেখানে আফজাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, এক হাজার ৪১ পিস ইয়াবা ও দুইশ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া গেছে উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে।