শুভ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৪ জুলাই শুভ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আমি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শুভ রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। প্রাচীন কাল হতে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আচার-অনুষ্ঠানাদির মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। অনাচার, অবিচার, পঙ্কিলতা দূর করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুগে যুগে এ ধরাধামে বিভিন্ন মহামানবের আবির্ভাব হয়েছে। তাঁরা অসুরকে দমন করে পৃথিবীকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকলের মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা এবং সম্প্রীতি সৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ এক অনুপম দেশ। সুদীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। ধর্মীয় উৎসব মানবিক ঔদার্য বিকশিত করে এবং সবার মধ্যে প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন প্রসারের শিক্ষা দেয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে এসব অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তা জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজে লাগানোর জন্য আমি দেশের সকল ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহবান জানাই।

আমি শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ জুলাই শুভ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ২০১৮ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণ পাশাপাশি বসবাস করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। এদেশের সকল মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে পালন করছে। ধর্মীয় উৎসব মানবিক উদারতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন প্রসারের শিক্ষা দেয়। ‘রথযাত্রা’ সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব। ইস্কন বাংলাদেশে এ রথযাত্রা উৎসব সফল করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করছে।

আমি আশা করি, এ রথযাত্রা উৎসব জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

আমি রথযাত্রা উৎসব ২০১৮ -এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪