মাহমুদুর রহমানের মামলার শুনানি ৯ সেপ্টেম্বর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবার সম্পর্কে কটূক্তি ও মিথ্যাচার করার মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বুধবার গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রমেশ কুমার দাগার আদালতে হাজিরা দেন।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী আদালতে তার পক্ষে শুনানী করে মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেন। কিন্তু বাদিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করলে আদালত আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী চার্জ শুনানির দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন মাহমুদুর রহমান। তিনি আলোচনাকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নাতনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী ও তার পরিবার নিয়ে মিথ্যাচার করেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে বাংলাদেশকে ভারতের কলোনি বলে আখ্যায়িত করেন। সেমিনারে তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। ওই বছরের ১৬ জুন বঙ্গবন্ধু গণমাধ্যমকে হত্যা করে কবর দিয়েছিল বলেও তিনি সেমিনারে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে বর্তমান গণমাধ্যম দিল্লির দালাল। বর্তমান গণমাধ্যম দখলদার প্রধানমন্ত্রীর দালাল। তিনি বঙ্গবন্ধুর জিন নিয়েও কটূক্তি করেন। শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন বলে কটূক্তি করেন। বাংলাদেশের অতন্ত্র প্রহরী পুলিশ বাহিনীকে গুণ্ডা বলে আখ্যায়িত করে তাদেরকে জনসম্মুখে হেয় করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শুধুমাত্র ইতিহাস, স্বাধীনতা ঘোষণাই নয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ও ১৬ জুনে মুজিবুর রহমান এক ও অভিন্ন নয় বলে চরম অবজ্ঞা করেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লড়াই করে উৎখাতের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

জেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন গত বছরের ১১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার আমলী আদালতে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা (সিআর ৫৮৩/১৭) করেন।

প্রিন্স, ঢাকা