বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন : “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

পরিবার পরিকল্পনা তথা পরিকল্পিত পরিবার বিশ্বব্যাপী আজ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। প্রয়োজনীয় তথ্য, শিক্ষা ও সেবা গ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেক দম্পতি ও নাগরিকের স্বাধীনভাবে সন্তান সংখ্যা ও সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে বিরতি নেয়ার অধিকার রয়েছে। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণের দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দিতে হবে যা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি দেশে মা ও শিশুমৃত্যু হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাই এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Family Planning is a Human Right’ অর্থাৎ ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’ যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

সকলের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সারাদেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে যার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সুস্থ-সবল জাতি গঠনে পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের এসব সেবা অবকাঠামোসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং মানসম্মত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ এগিয়ে আসবেন- এ প্রত্যাশা করি।

আমি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১১ জুলাই ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘Family Planning is a Human Right’ যার ভাবানুবাদ ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

একটি দেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। পরিকল্পিত পরিবার একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। পরিকল্পিত পরিবার খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মানবাধিকার পূরণের পাশাপাশি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। বাংলাদেশের আয়তন, অবস্থান, জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের বিকল্প নেই।

আমরা পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করে দারিদ্র্য বিমোচনসহ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীগণ সপ্তাহে তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক সেবা প্রদান করছে। আমাদের সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে এবং পরিকল্পিত পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একজন নারীর জীবনে সন্তান সংখ্যা এবং দুই সন্তানের মাঝে বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ফলে তাঁর নিজের ও সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস পায়। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পরিবার হবে তাদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিকল্পিত। এ অধিকার সুরক্ষিত করতে দেশের প্রত্যেক সক্ষম দম্পতির কাছে চাহিদা অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এবং তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।

আমি সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্রিয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪