বিশ্বকাপ ২০১৮: সেরা চারে তারকাযুদ্ধ

নিউজ ডেস্ক: কত কত ভবিষ্যদ্বাণী, কত শত বিশ্নেষণ! সবই যেন এখন চোখ নাচিয়ে উপহাস করছে। ব্রাজিল থাকবে না, আর্জেন্টিনা থাকবে না, থাকবে না জার্মানিও- শেষ চারে এমন হাল হবে, এতটা কি কেউ মাসখানেক আগেও ভাবতে পেরেছিল? আর ভাববেও বা কেন? বিশ্বকাপের আগের বিশটি আসরে এ ধরনের ঘটনা যে একবারও ঘটেনি! এমন অনেক ‘প্রথম’ এবং ‘অঘটনের’ জন্ম দেওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপ এখন গুটিয়ে আনা খেয়া জালের মতো মুঠোয় চলে আসার অপেক্ষায়। আজ বাদে কাল থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে ফাইনালে ওঠার লড়াই। দু’দিনের এই শেষের লড়াইয়ে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-বেলজিয়াম, বুধবারে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া। দুই ম্যাচের বিজয়ীরা ১৫ জুলাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নামবে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর জার্মানির মতো শীর্ষস্থানীয় তিনটি দলের সেমি না খেলার ঘটনা হয়তো এই প্রথম; তবে এদের টপকে যে চারটি দল এবার শেষ চার অবধি পৌঁছে গেছে, তাদের জন্য এটি প্রথম সেমি নয়। বিশ্বকাপের সেরা চারে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া সবারই। পার্থক্যটা কেবল ফাইনালে খেলা আর শিরোপাজয়ে। ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড একবার করে উঠেছে ফাইনালে, জিতেছে শিরোপাও। তুলনায় বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার দৌড় ওই সেমি পর্যন্ত। তাই বলে অঘটনকে এড়িয়ে, মাড়িয়ে আসা এ দুটি দলকে খরচের খাতায়ও ফেলা যাচ্ছে না।

বরং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিতই দেওয়া আছে। একদিকে র‌্যাংকিংয়ে ফ্রান্সের চেয়ে এগিয়ে বেলজিয়ানরা, অন্যদিকে ইংল্যান্ড এক ম্যাচে হারলেও ক্রোয়েশিয়া এখনও অপরাজিত। সেমিফাইনালের লড়াইটা তাই জমজমাট হওয়ারই আভাস। এক্ষেত্রে ফ্রান্স-বেলজিয়ামের প্রথম সেমি নিয়েই উত্তাপ বেশি। বিশ্নেষকদের চোখে এখন পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভালো খেলা দুটি দল হচ্ছে পশ্চিম ইউরোপের এ দুই প্রতিবেশী। ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল ‘সি’ গ্রুপ থেকে। অস্ট্রেলিয়া আর পেরুকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলেও তখন খুব বেশি ধার ছিল না খেলায়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ডেনমার্কের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করে গোলশূন্য ড্রতে। ৬৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত হওয়া ৬০ ম্যাচের মধ্যে এ একটি মাত্র ম্যাচেই কোনো গোল হয়নি। তবে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে কিলিয়ান এমবাপ্পে-আন্তোনিও গ্রিজম্যান-পল পগবার নিয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগ।

শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩, আর কোয়ার্টারে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশমের দলটি এখন মানসিকভাবেও বেশ ফুরফুরে। তবে সেমি টপকে ফাইনালে উঠতে হলে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে তাদের। র‌্যাংকিংয়ের তিন নম্বর অবস্থানে থাকা বেলজিয়াম সেমিতে উঠেছে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন আর রোমেলু লুকাকুদের দলটি তার আগে জাপানকে হারায় ৩-২-এ। ওই ম্যাচটিতে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে ছিল কিন্তু বেলজিয়ামই। তারও আগে প্রথম রাউন্ডে পানামা এবং তিউনিসিয়াকে হারানোর পর শেষ ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চ নামিয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০-তে হারায় রেড ডেভিলস নামে পরিচিত দলটি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেষ চারে উঠে এসেছে তারা। বেলজিয়ামের চোখ এখন বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালে।

একই আশা ক্রোয়েশিয়ারও। একসময় যুগোস্লাভিয়ার হয়ে খেলত ক্রোয়াটরা। বিশ্বকাপে আবির্ভাব ১৯৯৮ সালে। প্রথমবারেই সেমিতে উঠে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া এবার দ্বিতীয়বার শেষ চারে। লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচ-মারিও মানজুকিচরা আর্জেন্টিনার গ্রুপ থেকে প্রথম হওয়ার পর ডেনমার্ক ও রাশিয়াকে হারিয়ে এখানে। ক্রোয়াটদের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে নিজেদের ফাইনালের পথ করতে চায় ১৯৬৬-এর চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ৫২ বছর আগে নিজ দেশের বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা দেশটি সেমিফাইনালে উঠল ২৮ বছর পর। হ্যারি কেন-রাশফোর্ড-দেলে আলিদের নিয়ে গড়া গ্যারেথ সাউথগেটের দলটিও এখন দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে বিভোর।

তবে সবার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। সেমিতে ওঠা চার দলের দুটিকে শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হবে আগামী দু’দিনের মধ্যেই। দেখা যাক, কে থাকে কে যায়।