রাবি উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বানিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, যারা সরকারের পক্ষে আছেন তাদের কথা বলার অধিকার আছে বাদবাকি সকলকে তথাকথিত বিএনপি-জমাত-শিবির বলে সাধারনিকীরণ করেন। নিপীড়কের পক্ষ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাকে অপমান করে তাঁর দেওয়া এমন বক্তব্য অগণতান্ত্রিক এবং সাধারণ শিষ্টাচার বর্হিভ’ত,যা কেবল ফ্যাসিজমকেই উষ্কে দেয়। উপাচার্যের দেওয়া এ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার চেয়েছে কোটা বাতিল চায় নি। তবু প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিল ঘোষণা করেন। সরকার মহলের কর্তাব্যক্তিরা, বুদ্ধিজীবীরা বলেন শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চেয়েছে । এজন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে না। এর মধ্যে বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সামনে আসছে আরেকটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এজন্য উপান্ত না দেখে তারা আন্দোলনে নেমেছে। আর সেই আন্দোলন প্রতিহত করতে মাঠে নামে ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা করেছেন তা হলো- সরকার পতন আন্দোলন জাতীয় মিথ্যাচার থেকে বেরিয়ে এসে সরকার শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবিকে মানবিক বিবেচনায় দেখবেন, অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কোটা সংস্কার বিষয়ক একটি কমিশন গঠন করে সকল শ্রেণী- পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রির্পোট প্রস্তুত করবেন, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হমলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার করবেন, গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদের যেন আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন, হামলায় আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্রফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এ এম শাকিল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি লিটন দাস, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মনির হোসেন প্রমুখ।

প্রিন্স, ঢাকা