রাজনৈতিক দল ব্যতীত আধুনিক রাজনীতি অচল

প্রিন্স, এস.ডি: রাজনীতি মানব সভ্যতার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আধুনিক যুগে রাজনীতিকে বাদ দিয়ে মানবজীবন একেবারেই অকল্পনীয়। রাজনৈতিক দল ব্যতীত আধুনিক রাজনীতিও অচল। রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক।

৭-জুলাই ২০১৮ শনিবার, জাতীয় প্রেসক্লাবের কানফারেন্স লাউঞ্জে “রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবী পরিষদ” কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথা বলা হয়।

উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, নাগরিক ঐক্য পরিষদের নেতা জোনায়েদ সাকি, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরো অনেকেই।

বক্তারা বলেনব, ফকরুদ্দিন-মইনউদ্দিন গং দুই নেত্রী ও তাঁদের দলের রোষানল খেবে নিজেদেরকে বাঁচানোর লক্ষ্যেই দুই দলের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করণের মোক্ষম হাতিয়ার। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of people (Amendment) Ordinance, 2008 নামক কাল আইনটি জাতির কাঁধে চাপিয়ে দেন। উক্ত আইনটিই ২০০৯ সালে Representation of people order (Amendment) Act, 2009 (Act No XIII of 2009) নামে প্রণীত হয়। এই আইন অনুসারে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে একটি অতিরিক্ত অধ্যায় (CHAPTER VIA) সংযোজন করা হয়। উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০-এ থেকে ৯০-আই) রয়েছে।  উপরোক্ত আদেশের  ৯০-বি ধারা অনুসারে রাজনৈতিক দল-সমূহের নিবন্ধন পেতে হলে যে সকল শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে-

১) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নিবন্ধনের দরখাস্ত প্রদানের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী প্রতিক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে। অথবা

২) উপরোক্ত সংসদ নির্বাচন সমূহের যেকোন একটিতে আবেদনকারী দলের মনোনীত প্রর্থীদের আসনসমূহে মোট প্রদত্ত ভোটের ৫% ভোট পেয়ে থাকত হবে। অথবা

৩) অফিসসহ কেন্দ্রীয় সমিটির সাথে ১০টি জেলা কমিটি এবং ৫০টি থানা/উপজেলা কমিটি থাকতে হবে। 

৪) সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ ও সংগঠণের স্বাধীনতা সকল নাগরিকেরই আছে। সেই অর্থে কোন রাজনৈতিক দল পরিচালনা করতে নিবন্ধনের  প্রয়োজনীয়তা  থাকতে পারেনা।