এবার কোন অগ্নিপরীক্ষা

নিউজ ডেস্ক: পেনাল্টি সাগরে’ প্রায় ডুবতে থাকা তিন দল ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড আর রাশিয়াকে তীরে টেনে তুলেছিলেন গোলপোস্টের তিন সেনানী-দ্যানিয়েল সুবাসিচ, জর্ডান পিকফোর্ড ও ইগর আকিনফিভ। অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আরেক দল সুইডেনকে পড়তে হয়নি সেই অগ্নিপরীক্ষায়। তাতে হয়তো খুশি হওয়ার কিছু নেই সুইডিশ গোলরক্ষক রবিন ওলসেনের। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তার দেশ। বাঁচা-মরার এই মহারণে না জানি ওলসেনকেও পড়তে হয় পেনাল্টি-যুদ্ধের সামনে। কেবল ওলসেনই নন, বাকি তিন গোলকিপারই বোধ হয় আরেকটা অগ্নিপরীক্ষার কথা মাথায় নিয়ে নামবেন।

বিশ্বকাপে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সবার নজরে আসা আকিনফিভই মূলত রাশিয়াকে পৌঁছে দেয় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেদিন স্পেনের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে সাতটি দুর্দান্ত সেভের পর খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টিতে। সেখানেও চমকে দেন এই রুশ গোলকিপার। ইগো আসপাস ছাড়াও কোকের নেওয়া স্পট কিক থামিয়ে দেন তিনি। তাতেই উল্লাসে মাতে গোটা রাশিয়া। গ্রুপ পর্বসহ মোট চার ম্যাচে অংশ নিয়েছেন আকিনফিভ। যার মধ্যে গোল খেয়েছেন পাঁচটি। বিপরীতে এক ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি তিনি। আজ সোচিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে তার দিকেই কি চেয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

কম যাবেন না প্রতিপক্ষ গোলকিপার সুবাসিচ। তিনিও যে পেনাল্টি ঠেকিয়ে ইতিমধ্যে কুড়িয়েছেন ব্যাপক সুনাম। গ্রুপ পর্বের বাধা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে তাদের সামনে পড়ে ডেনমার্ক। সেই পরীক্ষায় উতরে যেতে ক্রোয়েটদের মূল কারিগর এ সুবাসিচই। নিঝনি নভগোরদের স্নায়ুঠাসা লড়াইয়ে সেদিন নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। এর পরই চলে দুই দলের গোলরক্ষকের পেনাল্টি-যুদ্ধটা। অবশ্য ড্যানিশ গোলকিপারও খারাপ করেননি। কিন্তু দিন শেষে সুবাসিচের নায়কোচিত সেভই হাসি ফোটায় লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচদের মুখে। কেবল ডেনমার্ক ম্যাচই নয় আগের দুই ম্যাচেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। বিশ্বকাপের একুশতম আসরে তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে দুই ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেননি সুবাসিচ। গোল খেয়েছেন মোটে একটি। সেক্ষেত্রে আজও রাশিয়ার বিপক্ষে সবার দৃষ্টি থাকবে ক্রোয়েশিয়ার এই গোলপোস্টের সেনানীর ওপর। অভিজ্ঞতার বিচারেও তার পাল্লাটা একেবারে হালকা নয়। ২০০৯ সালে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে অভিষেক হওয়া এই গোলকিপার এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৪১ ম্যাচ। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেললেও ক্লাবের জার্সিতে উজ্জ্বল। লীগ ওয়ানে ১৭৮টি ম্যাচ খেলা সুবাসিস ৭৩ ম্যাচেই কোনো গোল খাননি।

এদিকে শেষ ষোলোতে পিকফোর্ডের বাজপাখির মতো রূপটা দেখেই উচ্ছ্বাসে ভেসেছিলেন গ্যারেথ সাউথগেটের ছাত্ররা। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে সমতায় ফেরে কলম্বিয়া। তাতেই ভাগ্যটা নির্ধারণ হয় ট্রাইবেকারে। ভুল করেননি পিকফোর্ড। দারুণ প্রচেষ্টায় থমকে দেন লাতিন আমেরিকার দেশটিকে। এর পরই মূলত লাইমলাইটে এই ইংলিশ গোলরক্ষক। তবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে তিন ম্যাচে মাঠে নামলেও এখনও ক্লিনশিট বজায় রাখতে পারেননি। যদিও চোখে লেগে থাকার মতো কিছু সেভ রয়েছে তার নামের পাশে। অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নেই। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে নাম লেখানোর পর খেলেছেন মাত্র সাত ম্যাচ। ক্লাব ক্যারিয়ারে নেই তেমন একটা নাম-ডাক। এভারটনে যোগ দিয়েছেন ২০১৭ সালে। এরপর থেকে অদ্যাবধি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে এভারটনের গোলপোস্ট আগলেছেন ৬৯ ম্যাচ। ম্যাচ অল্প খেললেও প্রাপ্তির পাল্লাটা ভালোই ওজনদার। এভারটনের হয়ে ৬৯ ম্যাচে অংশ নেওয়া পিকফোর্ড ১৪ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হয়তো পিকফোর্ডকেই কাজে লাগতে পারে ইংলিশদের। ওলসেনের পারফরম্যান্সটা উজ্জ্বল। এখন পর্যন্ত সুইডেনের জার্সিতে চার ম্যাচে অংশ নেওয়া এই গোলকিপার খেয়েছেন মোটে দুই গোল।