তরিকুলকে ছাড়তে হলো রাজশাহী মেডিক্যাল

নিউজ ডেস্ক: ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় গুরুতর আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলাম তারেককে নগরীর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে রয়েল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেয়া হয় বলে পারিবারিক সূত্রের অভিযোগ। তারেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সুন্দরখোল গ্রামের বাসিন্দা। এ ব্যাপারে নগরীর মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান অবশ্য দাবি করেন, এটা চিকিত্সক ও মেডিকেল কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

তবে পুলিশ তরিকুলের পরিবারকে জানিয়েছে, বেসরকারি রয়েল হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে আবারো তাকে রামেকে ভর্তি করা হবে।

রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান এমএকে শামসুদ্দিন বলেন, আঘাতের কারণে তারেকের ডান পায়ের দুটো হাড় ভেঙে গেছে। তার মাথায় আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে। সারা শরীরে আঘাতের ক্ষত চিহ্ন। তার ভাঙা হাড় জোড়া লাগতে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে।

তারেকের সহোদর তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র তাদের হাতে না দিয়ে পুলিশের হাতে দিয়েছে। এরপর পুলিশ তাদের কাছে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেছে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় পুলিশ।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভের সময় গত সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান গেটের সামনের মহাসড়কে ধাওয়া করে পেটায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন মিলে যখন লাঠি নিয়ে তরিকুলকে পেটাচ্ছিল তখন আব্দুল্লাহ আল মামুন লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার পিঠে ও পায়ে আঘাত করছিল। কাঠের উপর যেভাবে পেরেক পোঁতা হয়, সেভাবে তরিকুলের শরীরে আঘাত করছিল হাতুড়ি দিয়ে। তরিকুল এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।

লাঠি ও হাতুড়ির আঘাতে যন্ত্রণায় কাতরানো তরিকুলকে পুলিশ ও কয়েকজন সাংবাদিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। তার ভাঙা পা-টি উরু পর্যন্ত প্লাস্টার করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান বলেন, আমরা চিকিত্সকের ওপর দিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। তারা যদি তারেককে রিলিজ দেয়, তাহলে দেবে। এটা তো ডাক্তারেরই কাজ। তারা যা ভালো মনে করেন তাই করবেন।