আশ্চর্যজনক দৃষ্টান্তে টাইগাররা

Bangladesh's Tamim Iqbal reacts after his dismissal during the first Test cricket match between Bangladesh and England at Zahur Ahmed Chowdhury Cricket Stadium in Chittagong on October 21, 2016. / AFP / Dibyangshu SARKAR (Photo credit should read DIBYANGSHU SARKAR/AFP/Getty Images)

নিউজ ডেস্ক: লজ্জা! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটা যদি দেখে থাকেন তাহলে ‘লজ্জা’ শব্দটা ব্যবহার আপনার খানিকটা দ্বিধা থাকবে। সেটা হয়েছে সেটাকে প্রকাশ করার মতো ভাষা বাংলা অভিধানে খুব বেশি হয়তো নেই। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিম্ম রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এতেই কী লজ্জা! না, যখন শুনবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ তখন হয়তো আপনার কাছে লজ্জা শব্দটা যথেষ্ট হবে না। কারণ ক্যারিবীয় দেশটিতে যাওয়ার আগে আমাদের ক্রিকেটাররা সিরিজ জয়ের কথা আশ্বাস দিয়েছিলেন। আর টেস্টে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের সূর্যটাও ডুবে গেছে আরো কয়েক বছর আগেই।

অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৯ ওভারের মধ্যেই পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বসে সাকিবরা। বাংলাদেশের প্রধান তিন ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন কোনো রান না করেই। লিটন দাস (২৫) ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই পেরোতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। ৪,১,০,০,০,৪,১,০,৬,২। বাংলাদেশের বাকি নয় ব্যাটসম্যানের স্কোর এগুলো। এরপর তো আর লজ্জা বলতে দ্বিধা থাকার কথা নয় তাই না!

গত তিন যুগে বাংলাদেশের চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা আর একটিও নেই। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ম ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটি নিউজিল্যান্ডের। সটি ১৯৫৫ সালে। এর আগে ১৮৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ও পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয় ৪৩ রানে। ১৯৫০ সালের পর একটি মাত্র দলই বাংলাদেশের চেয়ে কম রানে অলআউট হয়, ভারত (৪২), ১৯৭৪ সালে। আর অল্প হলে এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটি হতো বাংলাদেশের।

আজ বাংলাদেশের বারোটা বাজিয়েছেন কেমার রোচ। অথচ এই টেস্ট শুরুর আগে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে নিয়েই বেশি ভাবছিল টাইগাররা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে ভয়াবহ স্পেলটাই করলেন এই ক্যারিবীয় বোলার। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশের ৫ উইবকেট তুলে নেন এই পেসার। রান দিয়েছেন মাত্র ৮টি। ১৯৯৯ সালের পর প্রথম ১০ ওভারে তৃতীয় সেরা বোলিং বিশ্লেষণ এটি। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ভারনন ফিল্যান্ডার আর ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্টুয়ার্ট ব্রড নেন ৮ রানে ৫ উইকেট।

‘লজ্জা’ কথাটা দিয়ে লেখাটা শুরু হয়েছিল। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দারুণ উন্নতি হয়েছে। যা হয়েছে তার বেশির ভাগই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নয়তো ঘরের মাঠে। বিদেশে ও লঙ্গার ভার্সনে দেশের ক্রিকেট এখনো তিমিরেই রয়ে গেছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সাকিবদের পারফরম্যান্স খুব এটা ভালো বলার উপায় থাকছে না কারণ কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানের মতো নবীন দলের কাছে নাস্তানাবুদ জতে হয়েছে টাইগারদের। টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুতই উন্নতি না করতে পারলে এ ধরণের লজ্জার সংবাদ হয়তো আরো পড়তে হবে পাঠকদের। যেটা অবশ্যই কারো কাম্য নয়।