কেশবপুরে হরিহর নদের খনন কাজ শুরু

কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে অভিশপ্ত হয়ে দেখা দেওয়া পলিতে ভরাট হওয়া হরিহর নদ বুধবার দুপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে খনন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। হরিহর নদ পলিতে ভরাট হওয়ায় গত দু’বছর কেশবপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে নদের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুর পৌর এলাকাসহ নদতীরবর্তী ইউনিয়ন গুলোতে ভয়াভহ জলাবদ্ধতা শুরু হয়। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠে আসে। বাড়ি ঘর ছেড়ে মানুষ যশোর-চুকনগর সড়কের দু’পাশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হরিহর নদের জিরো পয়েন্টসহ আপার ভদ্রা নদীতে খনন কাজ করা হলেও এবার হরিহর নদে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে উচু হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এবার হরিহর নদের পানি উপচে পড়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা না দেয় তার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে হরিহর নদের কেশবপুর ও মণিরামপুরের সীমান্ত ছাতিয়ানতলা থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে নদ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে।

ছাতিয়ানতলা থেকে নদের ভাটিতে কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদ স্বেচ্ছা শ্রমে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, মৎস্য ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য হাসান সাদেক, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত বছর হরিহর নদের জিরো পয়েন্টসহ আপার ভদ্রা নদীতে খনন কাজ করা হলেও এবার হরিহর নদে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে উচু হয়ে গেছে। মৎস্য ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ বলেন, নদের উপচে পড়া পানিতে এলাকা যাতে জলাবদ্ধ না হয় সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে নদ খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান জানান, হনিহর নদের ছাতিয়ানতলা থেকে কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদ স্বেচ্ছা শ্রমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। নদের ভাটিতে মঙ্গলকোট পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজ করা হবে। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ সমাপ্ত হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে কেশবপুরে জলাবদ্ধতার সম্ভবনা থাকবে না।

উল্লেখ্য, কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসণের লক্ষে ইতিমধ্যে সরকার হরিহর নদ, আপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদীসহ সাতটি খাল খননের জন্য ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। যা বর্ষা মৌসুম শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান।

স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদ খনন শুরু হওয়ায় নদ তীরবর্তী এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য ঘের মালিকদের যৌথ উদ্যোগে এ মহতি কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

প্রিন্স, ঢাকা