ইতিহাস পাল্টে ইংল্যান্ডের টাইব্রেকারদের জয়

নিউজ ডেস্ক: নক আউট পর্বে নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত থাকা ম্যাচে ফল পেতে টাইব্রেকারের ব্যবহার। ফুটবলে ১৯৫২ সালে যুগোস্লাভ কাপে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকার ব্যবহার করা হয়। ১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে শুরু হয় টাইব্রেকার প্রথা। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ফিফা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে যুক্ত করে টাইব্রেকার। প্রথম আসরের সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয়।

টাইব্রেকারে এখন পর্যন্ত সবথেকে বেশি লাভবান জার্মানি। বিশ্বকাপে চারটি টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে চারটিতেই জয় জার্মানদের। আর টাইব্রেকারে সবথেকে বেশি ম্যাচ হেরেছে কোন দল? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুব বেশি ফুটবল জ্ঞান না হলেও চলবে। ইংলিশ ফুটবলের যারা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন তাদের প্রায় মুখস্থ, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে একটিও টাইব্রেকারের ম্যাচ জিতেনি! সত্যিই তাই, রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে লায়ন্সরা তিনটি টাইব্রেকার ম্যাচ খেলেছিল। তিনটিতেই হার তাদের।

শুরুটা ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ৪-৩ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ৮ বছর পর আর্জেন্টিনার কাছে ৪-৩ গোলে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ তারা। শেষটা বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় বিশ্বকাপে। জার্মানি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে মাথা নামিয়ে বাড়ী ফেরেন ল্যাম্পার্ড, জেরার্ড ও রুনিরা।

টাইব্রেকারের ইতিহাস কখনোই তাদের পক্ষে আসেনি। সেই ইতিহাস রাশিয়ার স্পাতার্কে পাল্টে দিলেন হ্যারি কেইন, রাসফোর্ড, ট্রিপিয়ার ও এরিক ডিয়েরা। মঙ্গলবার রাতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় ইংল্যান্ড। আর এ জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার নিশ্চিত করল ১৯৬৬ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

দুই দলের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই ১-১ গোলে ড্র ছিল। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত মিনিটে। দুই অর্ধে অতিরিক্ত ১৫ মিনিটের লড়াইও অমীমাংসিত। টাইব্রেকারে নির্ধারণ হয় ম্যাচের ফল।

টাইব্রেকারে প্রথম দুই রাউন্ডের শটে দুই দলের খেলোয়াড়রা গোল করেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও রাসফোর্ড এবং কলম্বিয়ার ফেলকাও ও কুয়াদ্রাদো লক্ষ্যভেদ করেন। তৃতীয় রাউন্ডে হতাশ করেননি কলম্বিয়ার ম্রুয়েল। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে গোল মিস করেন হেন্ডারসন। ওহ! আবারো সেই ব্যর্থ ইতিহাসে আটকা ইংল্যান্ড! লায়ন্সদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন কলম্বিয়ার উরিবের। তার নেওয়া শট লাগে পোস্টে। চতুর্থ রাউন্ডে ইংল্যান্ডের হয়ে সফল কিক নেন ট্রিপিয়ার।

সাডেন ডেথে ম্যাচ। প্রথমবারের মতো টাইব্রেকার খেলতে আসা কলম্বিয়ার ভাগ্যে কি আছে তা বোঝা যাচ্ছিল না সেই সময়েও। স্নায়ু পরীক্ষায় পারলেন না কার্লোস বাক্কা। তার নেওয়া শট বামহাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোল রক্ষক পিকফোর্ড। এবার গোল করলেই জয় ইংল্যান্ডের। বাক্কা না পারলেও এরিক ডিয়েরা ভুল করলেন না। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে খেলা মিডফিল্ডার গোল করে ইংল্যান্ডকে বিজয় উল্লাসে ভাসান। স্পাতার্ক স্টেডিয়ামে তখন লায়ন্সদের জয়োৎসব।

তবে এ উৎসব শুরু হয়ে যেত ৯০ মিনিটের ম্যাচের পরপরই! তাতে বাধা দেন ইয়েরি মিনা। বার্সেলোনার এ ডিফেন্ডার ৯৩ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করে, ইংল্যান্ডের করা ৫৭ মিনিটের গোলের জবাব দেন। ইয়েরি মিনা বিশ্বকাপে প্রতিটি গোল করেন হেড দিয়ে।

প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে গোল পায়নি কোনো দল। ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭টি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। যার ৪টি পেনাল্টি থেকে। তার নিখুঁত পেনাল্টি বারবার বাঁচাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। এবার তার নেতৃত্বে থাকা দলটি ইংল্যান্ডের টাইব্রেকারের জুজু কাটাল। শেষ ষোলো পেরিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন।

পুরো ম্যাচে ভালো খেলেও ভাগ্য পরীক্ষার টাইব্রেকারে হারল কলম্বিয়া। একটা দলকে ডুবানোর জন্য টাইব্রেকারই কি যথেষ্ট নয়?