আরো ১৬টি পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে

পাসপোর্ট সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আরো ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে। সারাদেশের মানুষ ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে যাতে ভিড় না করে, এজন্য জেলা পর্যায়েই এসব সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে “১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস স্থাপন” প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১৬ জেলায় ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরো জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৫১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এটি নির্মাণ করা হলে পোশাক শিল্পের তিন স্তরের জিএসপি সুবিধা আদায় করার জন্য পরিবেশবান্ধব সংমিশ্রিত সুতা ও কাপড় উৎপাদন করা যাবে। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাকরির সুযোগ তৈরি এবং বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রকল্পটি সহায়ক হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে সাশ্রয়ী মূল্যে সুতা উৎপাদন করে সুতা থেকে কাপড় ও পোশাক তৈরি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। পাশাপাশি দেশীয় তৈরি পোশাক শিল্পকে সাশ্রয়ী মূল্যে সুতা ও কাপড় সরবরাহ করে তিন স্তরের জিএসপি সুবিধা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

আজকের একনেকের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প; ইনস্টিটিউট অভ্ নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে সাইক্লোট্রন ও পেট-সিটি এবং ইনস্টিটিউট অভ্ নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স প্রকল্প (আইএনএমপি), সাভারে সাইক্লোট্রন সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্প; স্থানীয় সরকার বিভাগের “পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ (ফেজ-১)” প্রকল্প; বিদ্যুৎ বিভাগের “ঢাকাস্থ গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূ-গর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ” প্রকল্প; বিদ্যুৎ বিভাগের “মোল্লাহাট ১০০ মেঃ ওঃ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন” প্রকল্প এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “সোনাইমুড়ী-সেনবাগ-কল্যান্দী-চন্দেরহাট-বসুরহাট সড়ক উন্নয়ন” প্রকল্প।

আজকের উপস্থাপিত ৮টি (নতুন ও সংশোধিত)) প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬ হাজার ৪৯৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৩ হাজার ২৭৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ১৭৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার ৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

আজকের একনেক সভায় মন্ত্রিবর্গসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভা শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪