সন্ত্রাসী আব্দুল হাইকে আটকপূর্বক বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মরিামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুরের একাধিক নাশকতা মামলার আসামী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের মৃত হাফেস সরদারের পুত্র সাবেক বিএনপি ক্যাডার সন্ত্রাসী আব্দুল হাইকে আটকপূর্বক বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করলেন একই উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রপ্ত অরেন্ট অফিসার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাশেম। গতকাল রবিবার বিকেলে মনিরামপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত উপস্থিত সাংবাদিকের সম্মূখে তিনি লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ দাবি পেশ করেন। আহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের পক্ষে লিখিত এ বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক অর্থ সম্পাদক কমান্ডার ইকবাল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, আব্দুল হাই ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১৩ সালে আন্দোলনের সময় তার বিরুদ্ধে রাস্তার গাছ কাটা ও বিক্রি, আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের জখম, বাড়ীঘর ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ, নাশকতাসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার সাথে-সাথে ভোল্ট পাল্টিয়ে কতিপয় সুবিধাভোগী নেতার ছত্রছায়ায় সে বনে যায় নব্য আওয়ামীলীগ নেতা। আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে হয়ে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাত্রা দ্বি-গুন বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে তার অত্যাচারে জর্জরিত ১১নং চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগসহ এ দলটির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় তার অত্যাচারে আমারমত একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও রেহাই পেলাম না। সে কিছুদিন আগে থেকে আমার কাছে চাঁদা দাবী করে আসছিল। কিন্তু আমি চাঁদা না দেওয়ায় সে আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে গত ২৯/০৬/২০১৮ইং তারিখে আমার ভাতিজা মোঃ মিলনকে সাথে নিয়ে আমার নিজ মৎস ঘেরে মাছ ধরতে যায়। এ সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসী আব্দুল হাই তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাকে ও আমার ভাতিজা মিলনকে বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মক জখম করে-আমার কাছে থাকা ১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা কেড়ে নেই এবং যাওয়ার সময় হমকি দেই যদি এ ঘটনায় মামলা করিস তবে তোকে খুন করে ফেলবো।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবী করেন, ২০১৩ সালে বিনা কারণে নেংগুড়াহাট বাজারে ‘শহীদ জামাল স্মৃতি সংসদ ক্লাব ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ করে পবিত্র কোরান শরীফ, বঙ্গবন্ধুর ও প্রধানমন্ত্রী ছবিসহ দলীয় অফিস ও ক্লাবের গুরুত্বপূর্ন জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেয়। সেদিন যারা আগুন নেভানোর জন্য ছুটে গিয়েছিল তাদেরকেও মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। শুধু আওয়ামীলীগ করার কারণে আমার সহোদর মোফাশ্বর হোসেন খানকে পিটিয়ে রক্তার্থ জখম করে রাস্তায় পেলে রেখে ছিল।

একই সময়ে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল বাশারকে জখম করে ও নেংগুড়াহাট বাজরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ভবনে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয় এবং তৎকালিন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ছাত্রলীগনেতা কুদ্দুস সরদার, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জামাল খানের ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম খানের গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জ¦ালিয়ে দেয়। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বন্ধ করতে নেংড়াহাট স্কুল এন্ড কলেজ, গৌরীপুর ভোট কেন্দ্রে তার নেত্রত্বে বোমা হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে। গত ০৮/০৫/২০১৭ইং তারিখে মণিরামপুর উপজেলা সৈনিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল লতিফ পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। আব্দুল লতিফ এখন পঙ্গু প্রায়। কুখ্যাত এ সন্ত্রাসী, নাশকতাকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও হাইব্রীড এ আ’লীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ও আটকপূর্বক বিচারের দাবীতে ১১নং চালুয়াহাটি ইউনিয়ন সকল মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলী সমর্থক নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে দাবী জানিয়েছেন তাদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দীন, মোশারফ হোসেন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হেরমত আলী, আব্দুল হামিদ, সাংগঠনিক কমান্ডার আকরাম হোসেন, প্রচার ও পুর্নবাসন সম্পাদক পরিতোষ রায়, মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন, আব্দুল হামিদ, নারায়ন চন্দ্র, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মিলন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মিলন।

প্রিন্স, ঢাকা