নিছার আলী স্কুলের নাম পরিবর্তনের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের

মণিরামপুর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরের কুখ্যাত আফসার রাজাকারের ভাইয়ের নামে উদ্বোধনকৃত স্কুলের নাম ও স্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। গত ৩১ মে নিছার আলীর নামে “রান ডেভেল্পমেন্ট নিছার আলী মেমোরিয়াল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়” উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য।

এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযোদ্ধারা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন। বিদ্যালয়ের নাম ও স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আগামীতে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারন জনগণকে সাথে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীরও ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এসময় উপস্থিত ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আব্দুল হাকিম। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নারায়ন চন্দ্র সরকার, মুক্তিযুদ্ধচলাকালিন কমান্ডার মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ জিন্নাত আলী, ইনছার আলী, মশিয়ার রহমান, আব্দুল বারি, হাবিবুর রহমান, আবু দাউদ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানসহ ওই এলাকার স্বাধীনতা স্বপক্ষের ও সাধারণ জনতা।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল দিনে স্বাধীনতাকামী ওই এলাকার মানুষের উপর কুখ্যাত রাজাকার আফসার আলী ও তার সহোদর নিছার আলীর নেতৃত্বে বাড়ীঘরে অগ্নি সংযোগ, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণসহ যে অত্যাচার চালিয়েছিল তার একটি দীর্ঘ বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এ বিসয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দিন বলেন, আফসার আলী মোড়ল উপজেলার তালিকাভূক্ত শীর্ষ রাজাকার। এমন একজন কুখ্যাত রাজাকারের ভাইয়ের নামে স্কুল উদ্বোধন করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাতের শামিল। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হয়ে পুনরায় দলে এসে এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত দিবেন, তা কোন ক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলনের রেশ কাটতে না কাটতে গত ২৭জুন মণিরামপুর প্রেসক্লাবে অভিযুক্ত নিছার আলীর স্ত্রী ছামছুন্নাহার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। রিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, আমার ভাসুর ( স্বমীর বড় ভাই) আফসার আলী কুখ্যাত রাজাকার ছিলো-এটা দিবালোকের মত সত্য। কিন্তু আমার স্বামী নিছার আলী আদৌ রাজাকার ছিল না। ওই সময়ে আমি তাকে আমার উপজেলা ঘিবা গ্রামে আমার পিতা মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার বারিক খাঁর বাড়িতে নিয়ে বসবাস করতে থাকি। বিধায়, মুক্তিযোদ্ধারা আমার স্বামীকে নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন-তা মোটেও সত্য নয়।

উল্লেখ্য, উপজেলার হাজরাকাটি বেলতলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘রান ডেভেল্পমেন্ট নিছার আলী মেমোরিয়াল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’ নামক প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য। সেই জমির প্রকৃত মালিক কুখ্যাত সেই রাজাকার আফসার আলী। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যে নিছার আলীর পরিবারের স্বার্থ জড়িতে সেটার স্পষ্টই প্রমাণ-স্বজন প্রীতি ও আত্মীয় করণ।

ওই স্কুলের সভাপতি পদে আছেন নিছার আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার, প্রধান শিক্ষকের পদে আদিষ্ঠ হয়েছেন নিছার আলীর বড় পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু, সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়েছেন ছোট পুত্র রাশিদুল ইসলাম লিট্টু, সহকারী শিক্ষক হয়েছেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের দুই স্ত্রী-যথাক্রমে বড় স্ত্রী জান্নাত খাতুন সজনী ও ছোট স্ত্রী তানজিলা খাতুন। এছাড়া অপর শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জান্নতি আক্তার নিছার আলীর ছোট পুত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম লিট্টুর স্ত্রী। অপরদিকে বাড়ীর কেয়ারটেকার আব্দুস সাত্তার নিয়োগ পেয়েছেন প্রধান অফিসকারীরর পদ ও সভাপতি শামসুন্নাহার (নিছার আলীর স্ত্রী) এর আপন ছোট বোন রিনা বেগম বাগিয়ে নিয়েছেন আয়া পদটি।

নামে স্কুল প্রতিষ্ঠার কারণে যতটুকু না আলোচনায় ঝড় বয়ে যাচ্ছে-তার চেয়ে অধিক সমালোচনায় স্থান পাচ্ছে নিছার আলী পরিবার স্কুলটিকে বাড়ীর বৈঠকখানা সৃষ্টির পায়তারা। বিষয়টি এখন মণিরমাপুরসহ জেলা ও দেশ ব্যাপি সেরা খবর।

প্রিন্স, ঢাকা