ব্রাজিল ফুটবলে সাম্বার সুরের অপেক্ষা

নিউজ ডেস্ক: ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কার্লোস আলবের্তো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলিয়ানদের কাছে হলুদ জার্সি হল পবিত্র। যখন আমরা এটি গায়ে দেই…গর্ব অনুভব করি। এ জার্সি আমাদের জন্য নিয়ে আসে দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম। এটা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে এবং রোমাঞ্চ তৈরি করে।’

হলুদ জার্সি যেমন ব্রাজিল ফুটবল দলের পবিত্রতম প্রেম ঠিক তেমনই ব্রাজিল ফুটবলে সাম্বার সুর অন্যতম। সাম্বা সুরের মূর্ছনা যেভাবে প্রেম ছড়ায় ঠিক তেমনই ব্রাজিল ফুটবল ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। পেলে-গারিঞ্চা থেকে শুরু করে দুঙ্গা-জিকো-সক্রেতিসের পর রোনালদো-রিভালদো-রোনালদিনহোরা সেই সাম্বা সুরে নিজেদেরকে আটকে রেখেছিলেন। সাম্বা সুরের মতো করেই ফুটবল খেলেছেন তারা। হলুদ জার্সি আর সেলেকাওদের ভালোবাসতে বাধ্য করেছিলেন ফুটবল দিয়েই। সেই প্রথা এখনও চালু রেখেছেন নেইমার, কুতিনহো, মার্সেলো, জেসুসরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল নিজেদের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই। ধরে রেখেছে পুরোনো ঐতিহ্য। যেমন ১৯৮২-র পর সবকটি বিশ্বকাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। এবারও সেই ধারা পাল্টেনি। তিতের দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। সাফল্য খুব সহজে ধরা দিলেও ব্রাজিল দলে নেই সাম্বার সুর!

ব্রাজিল দলে ফুটবল মানেই ছন্দময় ফুটবলের আহ্বান। সাম্বার সৌন্দর্য। ব্রাজিলে ফুটবল শুধুই কোনো খেলা নয়, ফুটবলকে নিয়ে এক বিশেষ শিল্পকলার সম্ভার। ব্রাজিল মানেই ‘জোগো বোনিতো’। ছোট ছোট পাসে ছন্দময় ফুটবল। অসাধারণ ড্রিবলিং, চোখ ধাঁধানো ফিনিশিং, দানবীয় রক্ষণ আর ছন্দের তালে তালে ফুটবল উৎসব। ঠিক যেমনটা সাম্বার তালের মতো।

সেই সাম্বার সুরে রাশিয়া বিশ্বকাপে সুর মেলাতে পারেনি নেইমাররা। অবশ্য সেই ছন্দ নেই দীর্ঘদিন ধরেই। ২০০২ বিশ্বকাপের পর সেই পুরনো ছন্দ অনেকটাই হারিয়েছিল ব্রাজিল। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে ছিল নিজেদেরই ছায়া হয়ে! ঘরের মাঠে ২০১৪ সালে নেইমাররা সেই ছন্দ ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি। দুঙ্গার পর তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবথেকে বেশি জোর দেন ব্রাজিলের প্রথাগত ফুটবল স্কিলে। যাতে অনেকাংশেই সফল তিতে।

তিতে নতুনদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছেন পুরনো ছন্দ ‘জোগো বোনিতো’। মেক্সিকোর বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই আজ। নেইমার-কুতিনিয়ো-জেসুস-ফিরমিনো-সিলভা-জুলিয়ান-মিরান্ডা আলো ছড়াতে প্রস্তুত। ফুটবলের সেই চেনা ছন্দ আজ কি তারা ফেরাতে পারবেন। পারবেন কি সাম্বার তালে পুরো বিশ্বকে নাচাতে? সত্যিই ব্রাজিল ফুটবলে সুরের অপেক্ষা।