কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ রিমান্ডে

নিউজ ডেস্ক: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রায়হানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে রাশেদকে শাহবাগ থানার এসআই সজীবুজ্জামান আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়ের করা এক মামলায় রোববার দুপুরে রাশেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা ওই মামলায় রাশেদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং ফেসবুক ব্যবহার করে শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন জানান, রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর থেকে রাশেদকে ধরে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এছাড়া রাশেদের সঙ্গে থাকা মাহফুজ খান নামে অারেকজনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান মামুন।

এর আগে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) হামলার শিকার হন কোটা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে’র কর্মীরা। কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে গেলে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন আন্দোলনকারীরা। অবশ্য ছাত্রলীগ বলছে, একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় সাধারণ ছাত্ররা তাদের প্রতিহত করেছে।

হামলার পর সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে থাকা সংগঠনটি। নিজেদের ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে থাকা নেতারা জানান, ছাত্রলীগের হামলায় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ ১২-১৩ কর্মী আহত হন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নূর, আবদুল্লাহ, আতাউল্লাহ, মাহফুজ, শাহেদ ও হায়দার নামে ছয়জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।