কক্সবাজারে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সোমবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছেছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তারা কক্সবাজার পৌঁছান। সেখানে অবস্থানকালে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও উখিয়া সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় ২০০৮ সালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের এটি দ্বিতীয় দফা বাংলাদেশ সফর। এর আগে গত বছর বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, শনিবার মধ্যরাতে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকা পৌঁছান। তাদের মূল সফর কর্মসূচি চলবে রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। মূলত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনের উদ্দেশ্যেই তাদের এবারের সফর। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা ধারাবাহিকভাবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন। এবারই প্রথম বিশ্ব সংস্থাটির সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান সফরে এলেন।

সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদেরও কঠোর সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন সংকটের স্থানীয় সমাধানের পথ ত্বরান্বিত করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে— সে প্রশ্নটিই এ সফর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ সফর সম্পর্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভ্রমণ বার্তা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব ১ জুলাই সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে এ দিনের কর্মসূচিগুলোতে একই সঙ্গে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

সফরের দ্বিতীয় দিনে আন্তোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকবেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া কানিম। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জীবনযাপনের বর্তমান চিত্র পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি কতটা তৈরি হয়েছে তাও মূল্যায়ন করবেন।

সফরের তৃতীয় ও শেষ দিনে ঢাকা ত্যাগের আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব সাক্ষাৎ করবেন কি-না সে সম্পর্কে কোনো দায়িত্বশীল সূত্রই নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি। সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কমপক্ষে চারটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে ঢাকা সফরের সময় দেখা করার জন্য অনুরোধ এসেছে। তবে ওই সূত্রটি রাজনৈতিক দলগুলোর নাম জানাতে পারেনি।