শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: শ্রেণিকক্ষের ও পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে ১৭ নম্বর এম এস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে গাছতলা ও স্কুলের বারান্দায় তিরপল বিছিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবিরের গড়িমসি ও অদূরদর্শিতার কারণে শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি হচ্ছে বলে মনে করেছেন ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা।
একমাস আগে উপজেলা নিলাম কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের সেমি পাকা ভবনটি প্রকাশ্য নিলামের মধ্যে বিক্রি করা হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এনামুল কবির প্রতিশ্রুতি দেন, স্কুল ভাঙার সাত দিনের মধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে টিনশেডের শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে দেওয়া হবে। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো প্রক্রিয়া না থাকায় শিশুদের গাছতলায় ও স্কুলের বারান্দায় পাঠদান করতে হচ্ছে।

সরেজমিন উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের ১৭ নম্বর এম এস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। ওই স্কুলের পুরোনো ভবনের বারান্দায় বসে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস নিচ্ছেন সিনিয়র সহকারি শিক্ষিকা সালমা রশিদ। তিনি বলেন, এ স্কুলে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ৭০ জন। অথচ বারান্দাতে বসে ক্লাস করানোর কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের পার্শ্বের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। অনেক শিশু অনিহা প্রকাশ করছে স্কুলে আসতে। শিশুদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণিকক্ষের বিধান থাকলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ক্লাসে আসতে অনেক শিশু আগ্রহ হারাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সারোয়ার।

তিনি বলেন, এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৫ শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। বিদ্যালয়ে দুই পালায় ক্লাস চলছে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শিশু শ্রেণি, প্রথম, দ্বিতীয়, পঞ্চম শ্রেণি এবং বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পযন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। একই সময় দু’টি শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হলে বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এদিকে শিশু শ্রেণিতে ক্লাস বিরতি রেখে ওই তিরপল আবার খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

প্রিন্স, ঢাকা