রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন: কিম

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা সফররত বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেছেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটা একটা মানবিক বিপর্যয় । এ পরিস্থিতি যারা সৃষ্টি করেছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। আমরা রোহিঙ্গা পরিস্থিতির জন্য একটা সহায়তা তহবিল গঠনের জন্য কাজ করছি। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবো। রোহিঙ্গার জন্য আমরা ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি এটা পুরোটাই অনুদান হিসেবে বিবেচ্য হবে।

রবিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ ভিডিও বার্তায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, একক দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক এবার বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে। এবছর বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংক ৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দিবে।আমরা বাংলাদেশের জন্য কখনো এ রকম রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আশা করিনি। বরং বাংলাদেশের জন্য আমরা সবসময় উন্নয়ন পরিস্থিতি আশা করে আসছি। এ পরিস্থিতি হচ্ছে একটা মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংক যে সহায়তা দিচ্ছে সেটা অতি সামান্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শন্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আমাদের সকলের কাজ করা প্রয়োজন। আমি আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের মানুষ এত সংখ্যক রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করেছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের দেশ ও জাতির জন্য একটি জটিল জাতীয় সমস্যা। এটা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা। এ জটিলতা নিরসণ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন এটা আমাদের একার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এ রকম একটা সঙ্কটময় মুহূর্তে বিশ্বব্যাংককে পাশে পাওয়া আমরা সন্তুষ্ট। রোহিঙ্গাদের মতো এত বড় বোঝা বাংলাদেশ গ্রহণ যেটা বিশ্বের আর কোনো দেশ গ্রহণ করবে না। আমরা এ রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে ফেরত পাঠাতে চায়। এর জন্য আমরা আন্তর্জাতির সম্প্রদায়ের স্মরণাপন্ন হয়েছি। কারণ এটা আমাদের জন্য অনেক বড় বোঝা। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে কাছে পেয়েছি।