ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন : “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপনের এ আনন্দঘন মুহূর্তে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সম্মানিত শিক্ষকমÐলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯২১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ সূচনা হয়। শতাব্দী ছুঁই ছুঁই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার বিস্তারসহ বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে আসছে। বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশ, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। ঐতিহ্য ও গৌরবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাই কেবলই উচ্চ শিক্ষার পাদপীঠ নয়, জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের কেন্দ্রস্থলও। আমার বিশ্বাস আগামীতেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-গবেষকগণ তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আরো অবদান রাখতে সমর্থ হবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির আশা-আকাক্সক্ষার ধারক ও বাহক। বৈশ্বিক পরিবর্তনে জাতীয় আকাক্সক্ষারও পরিবর্তন ঘটেছে। সেই আকাক্সক্ষাকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে, জাতি তা প্রত্যাশা করে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চ শিক্ষা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাথে যথাযথ বলে আমি মনে করি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন ও ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকগণ তাঁদের মেধা, মনন, দেশপ্রেম, প্রজ্ঞা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে, জাতিকে নিয়ে যাবে বিশ্বের গৌরবময় অবস্থানে-এ প্রত্যাশা করি।

আমি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪