উন্নয়ন টেকসই করতে ডেলটা পরিকল্পনা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এক বছরের জন্য বাজেট করি না। সবাই বসে আলাপ-আলোচনা করেই বাজেট দেই। আমরা দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে ১০০ বছরের ডেলটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজটের ওপর বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ নিজেদের, ধার করা নয়। সে অনুযায়ী আমরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবদিক বিবেচনা করে চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চালু করি। কিন্তু তারা তা চাইল না, কোনো কথাই শুনতে চায় না। রাস্তায় নামল, লেখাপড়া বন্ধ করে, এমনকি পরীক্ষাও বন্ধ করল। এমনকি মেয়েরাও বলছে, তারা মেয়েদের জন্য কোটা চায় না। আমি বলেছি, তারা যখন চায় না তখন কোটার দরকার নেই। এ বিষয়ে কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বলেছি, কোটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা ঠিক করবেন। তবে এখানে বিরোধী দলের নেত্রী বললেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট করলেন। তাই তাদের প্রতি আমাদের বর্তব্য রয়েছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছি। মূল্যস্ফীতির কলাকৌশল আমরা বুঝে গেছি। সে অনুযাযী টিসিবির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেই। এবারে রোজার সময় মূল্যস্ফীতি ৫.৬ ভাগ ছিল। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। এখন আর ঘন ঘন লোডশেডিং হয় না। আমরা যে টাকায় উৎপাদন করি তার চেয়ে কম টাকায় বিক্রি করি। আমরা এলএনজি আমদানি করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেনি। ১৯৬৪ সালের পরিকল্পনায় ছিল। এটা বঙ্গবন্ধুও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা সে ডিজাইনটাকে পরিবর্তন করি। একটা সাইড দিয়ে রেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন গেল। ডিজাইনটা ঠিক করা হলো। এটা আমাদেরই করা। শুধু এটা নয়, আমরা তিস্তা সেতুসহ অনেকগুলো সেতু করেছি। আমরা পদ্মা সেতুকে দোতলা সেতু বানাচ্ছি। যদি ফ্ল্যাট সেতু বানাতাম, তাহলে দ্রুত হয়ে যেত। আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে এটা করছি। এটা ধীরে ধীরে করছি, এটার খরচ তাই বাড়বে। জমি কেনার সময় কেনা দামের চেয়ে কম দামে রেকর্ড করে। এখন মুশকিল হলো, রেকর্ড করেছে কম দামে, তাই জমি অধিগ্রহণের সময় তারা কম দাম পাচ্ছিল। সে অনুযায়ী খরচ ধরা হয়েছে। কিন্তু জমিওয়ালাদের যাতে ক্ষতি না হয় তাই এখন সে দামের তিন গুণ দামে জমি অধিগ্রহণ করছি। তাই পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছে। আমরা এখন ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে এসেছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, আমাদের অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যহত থাকে। আমরা চাই, অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বছর চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আমরা বিগত তিন অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এটা কিন্তু কম কথা নয়। প্রবৃদ্ধি সাধারণত এক বছর বাড়ে আরেক বছর কমে যায়। কিন্তু আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দেশ আজ স্বল্পোন্নত নেই, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে সকল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখব। মাদক এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এটা রোধ করতে হবে। যে যাই বলুক, আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা অব্যাহত থাকবে। কে কী বলল তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। মাদকের ছোঁবল থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের বাঁচাতে এটা আমাদের করতে হবে।

বাজেটের ওপর আরো বক্তব্য রাখেন- চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, এ কে এম শাহজাহান কামাল, নুরুল মজিদ মাহমুদ আলী, ইকবালুর রহিম, গোলাম দস্তগীর গাজী, জয়া সেনগুপ্ত, ছলিম উদ্দিন তরফদার, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, হাফিজুর রহমান, শরীফ আহমেদ প্রমুখ।