গ্রাম আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে গ্রাম আদালতে বিচার করতে গিয়ে সেই বিচারকের বিরুদ্ধেই দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গৌরীপুর উপজেলার ৭নং রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনির বিরুদ্ধে।

গৌরীপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি বলেন, গ্রাম আদালতে মো. সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে ২৪লাখ টাকার পাওনা রয়েছে মর্মে ত্রিশালের ব্যবসায়ী কবির আহমেদ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আইন অনুযায়ী তাকে একটি পত্র দেয়া হয়। শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে এই পত্র নিয়ে যাওয়ার পর গ্রাম পুলিশের ওপর হামলা চালায় সোহেল মিয়া।

তিনি রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের পুত্র। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করে। ত্রিশাল পৌরসভার পোড়াবাড়ি রোডের মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র কবির আহমেদ একজন মৎস্যচাষী তার সাথে সোহেল যে প্রতারণা করে আসছিলো আমরা চেয়েছিলাম এর সুষ্ঠু সমাধান। তা তিনি মেনে নিতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, এরপর সমাধানের জন্য আমি সেখানে গেলে আমার সাথেও সেই সোহেল অসৌজন্যমূলক আচারণ করেন। এখন শোনেছি তিনিই আমার বিরুদ্ধে তার বউকে দিয়ে দ্রুত বিচার আইনে ও তার চাচা মো. ছফির উদ্দিনকে দিয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/১১৭নং ধারায় পৃথক ২টি মামলা রুজু করেছে।

মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে আমি রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ২৮৭টি মামলার নিষ্পত্তি করেছি। দরিদ্র মানুষের আইনীসেবা দিতে আমি সদাপ্রস্তুত। মানুষ যখন সেবা পাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে একটি কুচক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সেই চক্রটি কাজ করে যাচ্ছে। যারা বর্তমান সরকারের উন্নয়নকে বারবার বাঁধাগ্রস্থ করেছে সেই জামায়াত চক্রের মূলহোতা সোহেল মূলহোতা।

এই সোহেল সেই সোহেল যে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বানচাল করতে গুলি চালিয়ে ছিলো। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে একের পর এক গাড়ী ভাংচুর চালিয়েছিলো। দেশের বিভিন্নপ্রান্তের জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা এই সোহেলের নেতৃত্বে উত্তর ময়মনসিংহে নাশকতামূলক পেট্রোল বোমা হামলায়ও জড়িত ছিলো। এ সোহেল আবারও সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. হেলাল উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, জামায়াত-শিবিরের তান্ডন আমরা দেখেছি ৫জানুয়ারি নির্বাচনে-ওরা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ককে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সেই লোকজন বর্তমান সরকারের উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ করতে আবারো তৎপর।

তিনি আরো বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যান যেখানে মানুষের কল্যাণকর কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বানোয়াট, অসত্য মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রশাসনের নিকট দাবী জানাচ্ছি, এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এ বক্তব্যকে সমর্থন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু ভূষণ দাস জানান, কোন জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না, তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। অবিলম্বে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

মতবনিমিয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জিল্লুর রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

তবে সোহেল মিয়া তার ওপর আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চেয়ারম্যান আমাকে হয়রানি করে আসছিলো। আমার বিরুদ্ধে এখন কোন মামলা নেই। সকল রাজনৈতিক মামলাই ষড়যন্ত্রমূলক।