কৃষককে মূল্য সহায়তা দিন: সিএসআরএল

২৭ জুন ২০১৮ গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান – সিএসআরএল ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিক্স এর আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯: কৃষি বাজেট পর্যালোচনা’ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিএসআরএল এর সভাপতি ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিক্স এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সিএসআরএল এর সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তার সঞ্চালনায় বাজেট পর্যালোচনা সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিক্স এর সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান এমপি এবং আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, সহসভাপতি, সিএসআরএল ও মাননীয় উপাচার্য, ইউনির্ভাসিটি অব
গ্লোবাল ভিলেজ এবং ড. মোস্তফা কে মুজেরী, নির্বাহী পরিচালক, ইন্সটিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স এন্ড ডেভলপমেন্ট। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, বাংলাদেশ ভ’মিহীন সমিতির সাধারন সম্পাদক সুবল সরকার, বাংলাদেশ অর্থনীতি শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রফেসর সরদার সৈয়দ আহমেদ, পিকেএসএফ এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক তানজির সুলতানা, বিকেএমইএর সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, বিভিন্ন ধরণের দাতাগোষ্ঠীর বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার যতদুর সম্ভব কৃষিতে ভর্তুকি করে যাচ্ছে। ভর্তুকির ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি কমানো হয় না, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বরাদ্দ ব্যবহার করতে পারে না বলেই সংশোধিত বাজেটে মুল বরাদ্দ কমে আসে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি। তিনি খাল-বিল-নদী-নালা ইজারা প্রদানের বর্তমান নীতির বিরোধিতা করেন।

কৃষির বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বাজেট তৈরী করা হয়; সবসময় সব অংশীজনের মতামত বাজেটে প্রতিফলিত করা সম্ভব হয় না। বাজার অর্থনীতি। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের বিষয়ে ভাবছি। অর্জন নিয়ে সবাই স্বীকার করেছে। সবাই পেট ভরে ভাত খাচ্ছে। মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। এখন সবার দায়িত্ব, আমাদের এই অর্জনকে স্থিতিশীল ও সুদৃঢ নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য সবাইকে ভ’মিকা রাখতে হবে।

ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, খাদ্য ও পুষ্টির জন্য কৃষি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তার জন্য কৃষিতে বরাদ্দ প্রয়োজন, বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে সামগ্রিক কৃষির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে এসেছে এবং শস্য প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিতে বরাদ্দ ও ভতুর্কি হ্রাস ও খাদ্য আমদানী বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, গতবছর ৯০০০ কোটি টাকা কৃষি ভতুর্কি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা সংশোধিত বাজেটে ৬০০০ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ কৃষি ভতুর্কি দেয়া প্রয়োজন। কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি ধান ও চাল সংগ্রহ করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার কৃষকের নিকট থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে না। ধান ও চাল চালকল মালিকদের নিকট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে সরকারী নীতিমালা প্রয়োজন।

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪