মেসির শেষ সুযোগ

নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা। তবে তাদের শেষ আশাটুকু জিইয়ে রেখেছে নাইজেরিয়া। কিন্তু আজ সুপার ঈগলদের মুখোমুখি হচ্ছে সাম্পাওলির শিষ্যরা। বিশ্বকাপের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আজ জয় ছাড়া বিকল্প কিছু নেই মেসিদের। আর এই ম্যাচে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে দলকে টেনে তোলার শেষ সুযোগ মেসির সামনে।

অবশ্য নিজের ৩১তম জন্মদিনে মেসি বলেন, বিশ্বকাপ না জিতে অবসরে যাবেন না তিনি। যতদিন জিততে পারবেন না, ততদিন খেলা চালিয়ে যাবেন। তবে বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বলছে, মেসির ২০২২ বিশ্বকাপ খেলাটা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিনই। চার বছর পর মেসির বয়স হবে ৩৫ বছর। সে সময় সেরা ফর্মে থাকতে পারবেন কিনা, এ প্রশ্নও থেকে যায়। তাই এখন রাশিয়ায় যেটুকু সুযোগ আছে সেটাই কাজে লাগাতে হবে তাকে। অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে ড্র এবং অন্যটিতে হেরে এখন সবকিছু নিজেদের হাতেও নেই। তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া বনাম আইসল্যান্ড ম্যাচের দিকেও। এমনকি নাইজেরিয়ার সঙ্গে মেসিরা ড্র করলেও আর্জেন্টিনাকে ধরতে হবে ফিরতি ফ্লাইট। জয় ছাড়া আপাতত আর কোনো রাস্তা খোলা নেই তাদের সামনে।

এদিকে আর্জেন্টিনাকে ভাবাচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা দলে কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের ঝামেলা চলছে। তবে সেসব ঝামেলার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হ্যাভিয়ের মাশচেরানো। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে ভালো আছেন মেসি। যদিও আগের ম্যাচে বাজেভাবে হারার কারণে কিছুটা হতাশ এ বার্সা স্ট্রাইকার। মাশচেরানো বলেন, ‘সে খুব ভালো আছে। সে আমাদের দলের মূল খেলোয়াড়। কিন্তু সে একজন সাধারণ গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ। তারও হতাশা আছে। সব মানুষ এমনই। দলের বাকিদের অবস্থাও তা-ই।’

এ সময় মেসি পরিস্থিতি বদলাতে মরিয়া বলেও জানান মাশচেরানো, ‘সে এখন পরিস্থিতি বদলে দিতে দারুণভাবে মরিয়া। সে পৃথিবীকে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি দেখাতে চায়, যা প্রথম দুই ম্যাচে অনুপস্থিত ছিল।’ সাবেক বার্সা মিডফিল্ডার আরো বলেন, ‘আমরা এখন সেসব বিষয়ে মনোযোগী, যা আমাদের হাতে আছে এবং সেসব কিছু, যা আমরা মাঠে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। পরিস্থিতি খুব জটিল, যেজন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। এখন আমরা সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি। আর আমাদের এখনো সুযোগ আছে।’

এখন মেসির সামনে কেবল ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জই নয়, তাকে দিতে হবে অনেক কঠিন সমালোচনার জবাবও। আগের ম্যাচে হারার পর বারবার প্রশ্ন উঠেছে তার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়েও। এই একটি ম্যাচের পরই অনেকে তাকে পিছিয়ে রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়ে। বার্সেলোনার সাবেক তারকা ইমানুয়ের পেতি যেমনটা বলেছিলেন, ‘তাদেরকে এভাবে দেখাটা লজ্জাজনক। বিশেষ করে মেসিকে মাথা নিচু করে চলে যেতে দেখা। ম্যাচে তাকে কখনই আগ্রাসী মনে হয়নি। তার মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়নি। তার লজ্জিত হওয়া উচিত।’ এ সময় নেতা হিসেবে মেসি ও রোনালদোর তুলনা করতে গিয়ে পেতি বলেন, ‘সে (মেসি) নেতা নয়। এ বিবেচনায় সে রোনালদোর চেয়ে পিছিয়েই থাকবে।’

মেসিদের এমন হারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও। তিনি বলেন, ‘আমার মনে দলটিকে নিয়ে ক্রোধ আছে। আমি ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। যারা এ জার্সি পরে, তারা ক্রোয়েশিয়া দ্বারা এভাবে বিধ্বস্ত হতে পারে না।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব সমালোচনার জবাব মেসি দিতে পারবেন তো? সেজন্য অবশ্য আজকের ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সাবইকে।